ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু শহরে বিশ্বের বাদ্যযন্ত্রভিত্তিক সর্বোচ্চ ভাস্কর্য “একতারা” নির্মিত

49

দেলোয়ার কবীর, ঝিনাইদহ : বাউল সম্রাট লালন শাহের জন্মস্থান ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু শহরে স্থাপিত হয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ বাদ্যযন্ত্রভিত্তিক ভাস্কর্য “একতারা”। হরিণাকুন্ডু উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত একতারা ভাস্কর্যটি এখন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। দৃষ্টিনন্দন একতারা ভাস্কর্যটি মনে করা হচ্ছে বিশ্বের সুউচ্চ বাদ্যযন্ত্র ভিত্তিক ভাস্কর্য। যার উচ্চতা মাটি থেকে ২৬ ফুট আর বেদি থেকে ২২ ফুট।
হরিণাকুন্ডু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট এম এ মজিদ জানান, ঝিনাইদহ সাংস্কৃতিসেবীদের দীর্ঘদিনের দাবী ছিল লালনের নিজ শহরে একটি একতারা ভাস্কর্য্য নির্মানের। সাংস্কৃতি কর্মীদের দাবী পুরন করতে পেরে নিজেকে গর্বিত মনে করছি। তিনি বলেন, এই একতারা ভাস্কর্য্যটি নির্মান করতে উপজেলা পরিষদ থেকে দুই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শেষবর্ষের ছাত্র শাওন সরদার ও অন্ত ১৫ দিন সময় নিয়ে একতারা ভাস্কর্য্যটি নির্মান করেন। এটি এখন জেলাবাসির কাছে গর্বের বিষয়।
হরিণাকুন্ডু শহরে লালনের একতারা প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের পুরোধা ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার ফেডারেশনের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী একরামুল হক লিকু বলেন, লালনের জন্মভুমি হরিশপুর ও উপজেলা শহর হরিণাকুন্ডুতে একতারা ভাস্কর্য নির্মানের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। একতারা ভাস্কর্যটি নির্মানের ফলে ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য বাঙ্গালী সাংস্কৃতির ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্ব করবে।
তিনি বলেন, বাঙ্গালী সাংস্কৃতির আদি ঐতিহ্যের যে ধারা, তার প্রতিনিধিত্ব করে বাউল সুর, যা ২০০৫ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত। হরিণাকুন্ডু শহরের একতারা ভাস্কর্য বিশে^র বাউলমনা মানুষকে আকৃষ্ট করবে বলেও লিকু মনে করেন।