যশোর জেনারেল হাসপাতাল’র সেবার মানোন্নয়ন শীর্ষক মতবিনিময়

40

নড়াইল কণ্ঠ : ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এবং সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) যশোর এর সহযোগিতায় ২৯ জুলাই ২০১৮, রবিবার সকাল ৯:০০ মিনিট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট যশোর জেনারেল হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আবুল কালাম আজাদ। সভা সঞ্চালনা করেন সনাক যশোরের সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস। হাসপাতালে সনাক যশোর কর্তৃক পরিচালিত বিভিন্ন কার্যক্রম, হাসপাতাল সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশমালা তুলে ধরেন সনাক, যশোরের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির আহবায়ক এ্যাড: মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী। সভায় হাসপাতালের শুদ্ধাচার ব্যবস্থাপনা কৌশল কর্মপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এএইচএম আনিসুজ্জামান। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন ডা: আব্দুর রহিম মোড়ল, ডা: মো: মাহবুবুর রহমান, ডা: মো: তৌহিদুল ইসলাম, ওয়ার্ড মাস্টার ওবাইদুল ইসলাম প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন সনাক সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, অধ্যক্ষ শাহিন ইকবাল, এ্যাড: প্রশান্ত দেবনাথ, হাসপাতালের চিকিৎসক ডা: ইলা মন্ডল, ডা: এইচএম আব্দুর রউফ, ডা: মো: আব্দুর রহিম মোড়ল, ডা: হিমাদ্রী শেখর সরকার, ডা: হাসান আব্দুল্লাহ্, ডা: একেএম জাহাঙ্গীর আলম, ডা: মধুসূদন পাল, ডা: মো: রবিউল ইসলাম, ডা: সৈয়দ জিজি-এ-কাদরী প্রমুখ।
সভায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আবুল কালাম আজাদ বলেন, ডাক্তারদের সাথে ঔষধ কোম্পনীর প্রতিনিধিদের সাক্ষাতের জন্য সময় নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত নির্দেশনার প্যানা তৈরী করে ইতিমধ্যে হাসপাতাল গেটে টাঙানো হয়েছে। দ্রুততম সময়ে এরকম আরো প্যানা হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে টাঙানো হবে। বায়োমেট্রিক হাজিরার কার্যক্রম ৮০% সস্পন্ন হয়েছে। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কিছু কর্মচারীর বায়োমেট্রিক হাজিরার কাজ বাকী আছে। এটিও অল্প দিনে শেষ হবে। সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে আগত রোগীদের নানা বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে হাসপাতালের জন্য একটি ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনের চাহিদা আবারো কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। একটি নতুন এ্যাম্বুলেন্স এবং একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফী মেশিনেরও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এগুলি যাতে পাওয়া যায় সে বিষয়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দীঘদিন স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা করা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি আগামী মাসে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাটি করা সম্ভব হবে।
মতবিনিময় সভায় যে সকল সমস্যা উঠে আসে সেগুলি হলো- হাসপাতালের কিছু টয়লেট প্রচন্ড নোংরা, নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয় না, কয়েকটি টয়লেটের দরজায় ছিটকানি নাই; রোগীদের বেড কভার নিয়মিত পরিবর্তন করা হয়না; বিভিন্ন ওয়ার্ডে ময়লা ফেলার গামলা ভাঙ্গা এবং গামলার ময়লা নিয়মিত পরিস্কার করা হয়না; কিছু নার্স ও আয়ার ব্যবহারে সেবা গ্রহীতারা অসন্তুষ্ট; আউটডোর টিকিটে যে রুম নম্বর ও রোগীর নাম লেখা হয় তা বোঝা যায় না; নির্ধারিত দিন ও সময়ের বাইরে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা হাসপাতালে ভিড় করছেন, রোগীদের প্রেসক্রিপশন চেক করছেন এবং প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছেন; কিছু ডাক্তার রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য নির্দিষ্ট ক্লিনিকে গিয়ে টেস্ট করানোর জন্য বলছেন; হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে, তারা রোগীদের নানভাবে বিভ্রান্ত করছে; বহি:বিভাগে দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারদের ডিউটি রোস্টার টাঙানো নেই; হুইল চেয়ার, ট্রলি ব্যবহার করলে এবং রোগী ছাড়পত্র নিয়ে চলে যাওয়ার সময় কর্মচারীরা বকশিস দাবী করেন; কয়েকটি ওয়ার্ড ও টয়লেটের বাতি নষ্ট ইত্যাদি।
সমস্যা সমাধানে সনাক’র পক্ষে যে সকল সুপারিশমালা তুলে ধরা হয় তা হলো- হাসপাতালের টয়লেটসমূহ নিয়মিত পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। যেসকল টয়লেটের দরজার ছিটকানি নাই তা দ্রুত লাগানো; রোগীদের বেড কভার নিয়মিত পরিবর্তন করা; ভাঙ্গা গামলা পরিবর্তন করে নতুন গামলা দেয়া এবং গামলার ময়লা নিয়মিত পরিস্কার করার ব্যবস্থা করা; নার্স ও আয়ারা যাতে রোগী ও রোগীর স্বজনের সাথে খারাপ আচরণ না করেন তা নিশ্চিত করা; হাসপাতালে যাতে কোন ধরনের অনৈতিক লেনদেন না হয় সেটা নিশ্চিত করা; সকল প্রকারের লেনদেনের ক্ষেত্রে মানি রিসিপ্টের ব্যবহার নিশ্চিত করা; আউটডোর টিকিটের গায়ে রুম নম্বর ও রোগীর নাম যাতে স্পস্টভাবে লেখা হয় তা নিশ্চিত করা; পূর্বের ন্যায় নির্ধারিত দিন ও সময়ের বাইরে যাতে ঔষধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা হাসপাতালে প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ; যেসকল টেস্ট সদর হাসপাতালে করানো হয় সেগুলি যাতে বাইরে হতে করানোর জন্য কোন ডাক্তার পরামর্শ না দেন সেটি নিশ্চত করা; হাসপাতালে দালালদের প্রবেশ বন্ধে প্রতিনিয়ত ব্যবস্থা গ্রহণ; হাসপাতালে ফার্মেসীর সামনে প্রতিদিনের বিতরণকৃত ঔষধের তালিকা টাঙানো; বহি:বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডাক্তারদের ডিউটি রোস্টার টাঙানো; যেসকল ওয়ার্ড ও টয়লেটের বাতি নষ্ট তা দ্রুত লাগানো।