ঝিনাইদহে গড়াই নদীর শুকনো বালুচরে মাছ চাষ:বেকার যুুুবক সাগরের বিষ্ময়কর আবিস্কার

48

দেলোয়ার কবীর, ঝিনাইদহ : দেশে প্রোটিনের চাদিদা মেটাতে সরকার যখন বিভিন্নমূখী পদক্ষেপ নিচ্ছে ঠিক তখনই ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার পুরাতন বাখরবা গ্রামের শিক্ষিত বেকার যুবক রাকিবুল ইসলাম সাগর নদীতে জেগে ওঠা বালুচরের উপর মাছের চাষ করে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিনত হয়েছেন। মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা বলছেন- এটি একটি উদ্ভাবনী চিন্তা-চেতনার ফসল।
অনেকেই প্রথমে তাকে পাগলই বলে আখ্যায়িত করলেও মাত্র তিনমাসের ব্যবধানে বড় বড় মাছ দেখে অনেক যুবকই এখন সাথে সখ্যতা করছে, যোগ দিয়েছে মাছচাষে। পতিত, ডুবোচর ও জেগে ওঠা বালুচরে তেলাপিয়া, জাপানি পুঁটিও চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বালুচরে বাণিজ্যিকভাবে চাষ ভাল লাভজনক হতে পারে বলে মনে করছে অনেকে।
রাকিবুল ইসলাম সাগর জানান, গেলবছর পরীক্ষামূলক একটি বেড তৈরী করে পাঁচহাজার টাকার মাছের পোনা ছেড়ে ১০ হাজার টাকা বিক্রি করেছিলেন তিনমাসে। অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার বালুচরের চারটি বেডে শুরু করেছেন মাছচাষ। ১০৫ ফুটের মতো দৈর্ঘ্য, ১৭ থেকে ১৮ ফুট প্রস্থ আর দুই থেকে চারফুট গভীরতায় বেড তৈরী করে পলিথিন বিছিয়ে দিয়ে শুরু করা যেতে পারে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ।
তিনি জানান, নদীতে বর্ষাকালে নদী পানিতে ভরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত কমপক্ষে মাস আর জেগে উঠা চরে ৬-৭ মাসের বেশী সময় এভাবে চাষ সম্ভব। কাটাযুক্ত বাদে সব ধরনের মাছই এভাবে সম্ভব এবং প্রতিটি মাছের ওজন এক কেজি পর্যন্ত করা যেতে পারে। আর মাছ উৎপাদনে দেশ এক নাম্বার অবস্থানেও নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করছে এমন চাষের উদ্ভাবক রাকিবুল ইসলাম সাগর। আর মৎস অফিস বলছে এটা রীতিমতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ, যা কাজে লাগিয়ে দেশের মৎস চাষের বিপুল সম্ভাবনা তৈরী ও চাষ করা সম্ভব।
সাগরের কোন বেলা ভুমিতে অস্ত যাওয়া সূর্যের প্রতিফলনের মতনই শৈলকুপাতে গড়াই নদীতে জেগে ওঠা বালুচরের দৃশ্য দেখিয়ে সাগর জানান, পুকুর, জলাশয় বা বড় কোন জলাকারের মতই আপন মনে এখানেও সেভাবে মাছেরা খেলছে, ঘুরে বেড়াচ্ছে মাছ । আর তা দেখতে কাছেন মানুষতো বটেই, দূর দূরান্তের মানুষও তা দেখদে ভীড় করছে প্রিিতদিনি। বাস্তবতা দেখে ওই এলাকার এবার আরো তিন যুবক তাকে অনুসরণ করে নেমে পড়েছেন মাছ চাষে, সাগর জানান।
অতীততের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সাগর জানান, পুকুর লিজ নিয়ে তিনি কই মাছের চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হন, হারিয়ে ফেলেন পুঁজি। তখন থেকেই নতুন করে মাছচাষের নতুন পদ্ধতি খুঁজতে গিয়ে পরীক্ষামূলক বালুচরে মাছ চাষের সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশী সময় বাড়ির আশপাশে তিনি গবেষনা চালিয়েছেন । কাটাযুক্ত বাদে সব ধরনের মাছই এভাবে উৎপাদন করা সম্ভব এবং ওজনও প্রিিতটি এক কেজি পর্যন্ত করা যেতে পারে। আর মাছ উৎপাদনে দেশকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে বিশ্বাস করেন তিনি।
সাগরের মতে, পুকুর বা জলাশয় লিজ নিয়ে মাছ চাষ ঝুকিপূর্ণ হলেও বালুুচরে মাছচাষে তেমন ঝুঁকি নেই। তাছাড়া, বড় পুজি বা জমিরও দরকার হয়না।
পতিত বালুচরে সাময়িকভাবে মাছ চাষের প্রক্রিয়াকে উদ্ভাবনী চিন্তায় এনে কাজে লাগাতে পারলে দেশের মাছ চাষে যুগান্তকারী ঘটনা ঘটতে পারে বলে মনে করেন শৈলকুপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক । তিনি জানান, শুধুমাত্র কিছু সম্পুরক খাদ্য দিয়ে জমি, পুকুর, জলাশয় বা বড় ধরনের বিনিয়োগ ছাড়াই এ প্রক্রিয়ায় মাছের চাষ বিরাট লাভজনক করা সম্ভব। রাকিবুল ইসলাম সাগরের মত শিক্ষিত বা অশিকিবশত যুুুুবকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এভাবে মাছচাষ দেশের প্রোটিন চাহিদা পূরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বেশ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন ওই মৎস্য কর্মকর্তা।