নওয়াজ শরীফের পরাজয়ে ব্যাকফুটে বিএনপি!

39

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ও তার দল মুসলিম লীগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) এর সাথে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। পাশাপাশি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই- এর সাথেও দলটির রয়েছে ব্যাপক দহরম মহরম। কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে নওয়াজের মুসলিম লীগের ভরাডুবি হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল অফিসিয়ালি প্রকাশ না হলেও নওয়াজের ভরাডুবি এখন বেশ পরিষ্কার। ফলে পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরানের তেহরিক-ই ইনসাফ (পিটিআই)- এর জয় বিএনপির জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের পর পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কিছু রদবদল হবে। ফলে সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে যারা আসবে, তারা বিএনপির নেতৃত্বের অপরিচিত। যা বিএনপির জন্য বড় রকমের দুশ্চিন্তার কারণ।
অ্যাভেনফিল্ড দুর্নীতি মামলায় দণ্ড মাথায় নিয়েই গত ১৩ জুলাই লন্ডন থেকে পাকিস্তানে ফেরেন নওয়াজ শরিফ। ফিরেই লাহোর বিমানবন্দরে নেমে গ্রেপ্তার হন নওয়াজ শরিফ এবং তার মেয়ে মরিয়ম নওয়াজ। ঘটনার মাত্র ১২ দিনের মাথায় অনুষ্ঠিত হলো পাকিস্তানের একাদশ পার্লামেন্ট নির্বাচন। সেখানে ভরাডুবি হয়েছে দলের। ফলে নওয়াজের কারামুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে নতুন পাক প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নেতৃবৃন্দের কাছে অপরিচিত। কারণ ইমরান খানের যখন রাজনীতিতে প্রবেশ, তখন থেকেই বিএনপি বাংলাদেশের মূলধারা থেকে ছিটকে গেছে। নওয়াজের সঙ্গে বিএনপি নেতৃত্বের যে নৈকট্য ছিল ইমরানের সঙ্গে ঠিক ততটাই দূরত্ব। একই সঙ্গে ইমরানের নেতৃত্ব আসার ফলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পরিবর্তনের ফিসফাস বাস্তব হয়েই দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আগের নেতৃত্বের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল বিএনপির। নতুন এই তরুণ নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপি পুরোপুরি অপরিচিত। ভারত বিরোধী মনোভাব থেকে বাংলাদেশে বিএনপির পক্ষে পাক সেনাবাহিনীর সমর্থনের আশা ছিল বিএনপির। কিন্তু পরিবর্তিত পাকিস্তান আর্মির কাছ থেকে সেই আশা গুড়ে বালি।
নির্বাচন পরবর্তী পাকিস্তানে আগামী কয়েকমাস রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল থাকবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এমন উত্তাল অবস্থায় দেশ নিয়েই ব্যস্ত থাকবে পাকিস্তান সামরিক গোয়েন্দা (আইএসআই) থেকে শুরু করে দেশটির সব ধরণের নিরাপত্তা বাহিনী। তাই আগামী কয়েক মাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে পাকিস্তানের কোনো আগ্রহ এবং দেওয়ার মতো সময় থাকবে না বলেই বিশ্বাস আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের।
পাকিস্তান নির্বাচন নিয়ে বিএনপি নেতৃত্ব যে স্বপ্নের জাল বুনেছিল তা এরই মধ্যে ছিঁড়ে গেছে। নির্বাচন এবং এর আগে-পরের ঘটনাপ্রবাহে এটা মোটামুটিভাবে নিশ্চিত হয়ে গেছে যে, লম্বা সময়ের জন্য পাকিস্তানকে পাশে পাচ্ছে না বিএনপি। পাকিস্তানের নির্বাচন সামগ্রিকভাবেই হতাশ করেছে বিএনপিকে।