পুলিশ শুধু দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের লালনই করে না, মাছও পালন করে

0
45
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : একটি মানুষ তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে সৃজনশীল, মানবকল্যাণমুখি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে তার উপর অর্পিত দায়িত্বের যথাযথ সদব্যবহার করে দেশ ও জাতির উন্নয়নের মুলস্রোতধারায় সম্পৃক্ত করে জাতীয় অর্থনীতি ও পরিবেশ সুরক্ষায় অসামন্য ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু আমরা প্রতিনিয়ত দেখি তার উল্টোটা। আজ আপনাদের এমন একজন মানুষের কথা বলবো যিনি তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও বিবেক দিয়ে সৃজনশীল, মানবকল্যাণমুখি, অসাম্প্রদায়িক চেতনার সমন্বয় ঘটিয়ে কাজ করে চলেছেন।

তিনি আর কেউ নন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন (পিপিএম)। তিনি নড়াইলে যোগদান করার পর পুলিশের নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে চেষ্টা করেছেন। তার নেতৃত্বে মাদক, জঙ্গি, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চলচ্ছে। এ অভিযানে ইতিমধ্যে নড়াইলে পুলিশের সাথে মাদকব্যবসায়ীদের বন্ধুকযুদ্ধে ৩ মাদকব্যবসায়ী ও ডাকাত নিহত হয়েছে।
’পুলিশ শুধু দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের লালনই করে না, মাছও পালন করে’, পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগও গ্রহণ করতে জানে। নড়াইল-মাগুরা সড়কের পাশে প্রায় ৩০ বছর ধরে পচা দুর্গন্ধময় পতিত নরদোমা পুলিশ সুপার নিজ উদ্যোগে পরিস্কার করে মাছ চাষ উপযোগি করেছেন।
এই লেক তৈরী করায় এলাকার মানুষ ৩০ বছরের পচা দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেয়েছে। এ পথে এক সময় মানুষ নাকে কাপড় দিয়ে দ্রুত দুর্গন্ধময় এলাকা পার করতো। বর্তমান এসপি দুষ্টের দমন অভিযানের মধ্যদিয়ে তার সৃজনশীল মন দিয়ে এই দৃষ্টি নন্দন কর্মসূচি গ্রহণ করায় পড়ন্ত বিকেল বেলায় সব বয়সের মানুষ ঘুরতে আসছে এই লেকে এবং তারা কিছুটা সময়ও পার করছেন প্রকৃতির সাথে।

এই একর সমপরিমান ড্রেন বা পচা ডুবার মালিক কিন্তু জেলা পরিষদ ও সড়ক বিভাগ। ৩০ বছর ধরে এই জায়গা-জমির ব্যবহার উপযোগি করার কখনও কোন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। কর্তৃপক্ষের অবহেলায় এটা ময়লাখানায় পরিনত, আর স্থানীয় মানুষরা এখানে ময়লা ফেলতো নিয়মিত।
উল্লেখ্য, শহরের প্রাণ কেন্দ্রে নড়াইল-মাগুরা সড়কের পাশে এই পচা নর্দমার উল্টাদিকে জেলা পুলিশ সুপারের বাংলো। বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আসলে তিনি নিজ দায়িত্বে এই নর্দমাটি সংস্কার করেন এবং তৈরী করেন মৎস্য অভয়াশ্রম উপযোগি দৃষ্টিনন্দন মৎস্য খামার। বর্ষা মৌসুমে ডিমওয়ালা মাছ ছেড়ে কৃত্রিম জলাধার ও ¯্রােত তৈরী করে মাছের ডিম ফুটাবারও চেষ্টা করা হচ্ছে এখানে। এখানে দেশি প্রজাতির চারা পোনা, ডিমওয়ালা মাছ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কই, শিং, মাগুর, পুটি, পাবদা, টাকি, চিতল, খল্লা, বেলেসহ অন্তত ১০-১৫ প্রজাতির দেশি মাছ।

লেকের চারিদিকে রোপন করা হয়েছে বিভিন্ন রকমের ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা। পুলিশ সুপার নিজ হাতে প্রতিদিন সকাল বিকাল এই খামারের পরিচর্যা করেন। প্রকল্পটির নাম দিয়েছের পুলিশ মৎস্য এ্যাকুরিয়াম, নড়াইল।
দুর্গাপুরের কম্পিউটার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ইয়াসিন আরাফাত মল্লিক জানান, এই পথ দিয়ে হাটা-চলাফেরার সময় যে দুগর্ন্ধ নাকে যেতো তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। এখন কোন দূর্গন্ধ নেয়। বরং মনে কয় এখানে এসে কিছুটা সময় কাটায়। এখন সময় পেলে কাজের ফাকে সে তার বন্ধুদের নিয়ে বিকেলে এই মৎস্য এ্যাকুরিয়ামে ঘুরতে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: এনামুল হক জানান, নড়াইলে আগে প্রচুর দেশি মাছ পাওয়া যেত। এখন অনেক মাছ হারিয়ে গেছে। এই মৎস্য এ্যাকুরিয়ামে বিভিন্ন প্রকার দেশি মাছ সংগ্রহ করে চাষ করা হচ্ছে। এতে হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ কিছুটা ফিরে পাওয়া যাবে বলে আশা করেন তিনি।
নড়াইলের পৌর মেয়র মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বিশ্বাস জানান, যেখানে মৎস্য এ্যাকুরিয়াম করা হয়েছে এটি পৌর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এই এলাকাতেই সার্কিট হাউজ, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, গণপূর্ত প্রকৌশলীর বাসভবন। এখানে রয়েছে সাব রেজিষ্ট্রি অফিস, এলজিইডি ভবন, সড়ক বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বেরসকারি অফিস। এটিতে আগে এলাকার লোকজন ময়লা অর্বজনা ফেলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করে রাখতো। পুলিশ সুপার নিজ উদ্যোগে জায়গাটি পরিস্কার করে মৎস্য খামার করায় এলাকার মানুষ স্বস্তি ফিরে পেয়েছে।
সিভিল সার্জন মো: আসাদ-উজ-জামান মুন্সী বলেন, আবাসিক এলাকায় ময়লা আবর্জনা ফেললে প্রচুর দূর্গন্ধ সৃষ্টি হয় এবং মশার উপদ্রব বাড়ে। এই দূর্গন্ধে ও মশায় মানুষের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর রোগবালায় হওয়ার আশংকা থাকে। জায়গাটি পরিস্কার করে মৎস্য খামার করার জন্য এলাকার মানুষের রোগবালায় কমে যাবে বলে জানান তিনি।
পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ জসিম উদ্দিন পিপিএম জানান, পুলিশ শুধু দুষ্টের দমনই করে না, মাছও চাষ করে। এই জায়গাটি দীর্ঘদিন যাবৎ ময়লা আর্বজনা ফেলায় এলাকার পরিবেশ দূষিত হয়ে গিয়েছেল। বাসায় ফেরার সময় এবং অফিসে যাওয়ার এই দুর্গন্ধময় নর্দমা আমাকে কষ্ট দিতো। বিশেষ করে পাশে (২০ ফুট দূরে) মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীসহ এলাকার মানুষ সাস্থ্য ঝুকিতে ছিল। সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেই এটি করা হয়েছে। এর ফলে আমিষের ঘাটতিও কিছুটা পুরন হবে এবং এলাকার পরিবেশও ভাল থাকবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here