নড়াইলে নৌকার হাট: নৌকা নির্মাণ করে সংসার চালায় শত পরিবার

0
69
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নড়াইলের রামসিদি গ্রামে নৌকা কেনা-বেচার অন্যতম হাট বসে। প্রায় ৩০ বছর ধরে নড়াইল সদর উপজেলার রামসিদি গ্রামের শত পরিবার নৌকা গড়েই জীবীকা নির্বাহ করে আসছে।
এখানে প্রতি বুধবার সকাল ৬টা হতে এ নৌকার হাট বসে। বছরের প্রায় ৬ মাস ধরে এ নৌকার হাট চলে। বিক্রি হয় বিল এলাকায় চলাচলের উপযোগি কালাই-ঢালাই নৌকা।
এ হাটে নৌকা কিনতে আসেন খুলনার ফুলতলা, তেরখাদা, রূপসা, ডুমুরিয়া, ও দিঘলিয়া, যশোরের অভয়নগর ও বাঘারপাড়া, মাগুরার শালিখা ও মহম্মদপুর, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী, মকসুদপুরসহ অনেক এলাকার সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
জানাগেছে, এ নৌকার হাটে বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার মূল্যের ৫ হাজার নৌকা উঠে। প্রতিটি নৌকা গড়ে ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়। প্রতি বছর প্রায় এক কোটি টাকার সমমূল্যের প্রায় ৪ হাজার নৌকা বিক্রি হয়।
ডহর রামসিদি “কৃঞ্চ কালি ও হরি মন্দিরের সভাপতি অমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, নৌকার হাটটি পরিচালনা করে ডহর রামসিদি “কৃঞ্চ কালি ও হরি মন্দির” এর ব্যবস্থাপনা কমিটি। মন্দির কমিটি নৌকা ক্রেতাদের নিকট হতে হাসিল কেটে প্রতিবছর প্রায় ৩ লক্ষ টাকায় আদায় করে। তারা এ অর্থ দিয়ে মন্দিরে ধর্মীয় কাজ ও এলাকার হতদরিদ্র মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য ব্যয় করে থাকে।
জানাগেছে, ক্রেতা ব্যবসায়ীদের নিকট হতে নৌকা প্রতি ৫০টাকা এবং সাধারণ ক্রেতাদের নিকট হতে নৌকা প্রতি ১০০ টাকা খাজনা আদায় করে। গড়ে নৌকা প্রতি আদায় হয় ৭৫ টাকা।
ভদ্রবিলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শেখ মোশারেফ হোসেন জানান, এখানে প্রতি বুধবারে নৌকার হাট বসে। এখান থেকে ইউনিয়ন পরিষদ কোন টোল নেয় না। প্রতি হাটে ইউনিয়নের চৌকিদার, ইউপি সদস্যরা সহযোগিতা করে। এখানে প্রায় ৩০-৩৫ বছর রামসিদি গ্রামের মানুষ নৌকা তৈরী কওে এবং এ হাটে বিক্রি করে।
নৌকা তৈরীর জন্য ব্যবহৃত হয় এ অঞ্চলের পউয়া, উড়িয়াম ও রেন্ট্রি গাছের কাঠ। বর্ষা মৌসুমে এ নৌকার চাহিদা হয় বেশি এবং বেচাকেনাও হয় ভাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here