রাসিক’র মেয়র প্রার্থী আমজনতার তোপের মুখে

41

সুজন– সুশাসনের জন্য নাগরিক গত বেশ কয়েক বছর ধরে দেশের জনগণের অধিকার নিশ্চিতের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তারা প্রায় সময়ই সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিয়ে মত বিনিময় সভার আয়োজন করে থাকে। এই সভায় সাধারণ জনগণ তাদের মতামত, প্রশ্ন , উপদেশ ইত্যাদি তুলে ধরেন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সামনে। রাজশাহী নির্বাচনকে সামনে রেখে সুজন একটি মত বিনিময় সভার আয়োজন করে। মত বিনিময় সভায় রাজশাহীর নানা শ্রেণী পেশার ভোটারগণ উপস্থিত ছিলেন।
নগরীর সাহেববাজার এলাকায় একটি স্থানীয় কমিউনিটি সেন্টারে এই মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মত বিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও সদ্য বিদায়ী মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে এ সময় জনগণ নানা প্রশ্ন করেন। সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে তাকে বেশ হিমশিম খেতে হয়। বিদায়ী মেয়র গত নির্বাচন ইশতেহারে বলেছিলেন নগরীর উন্নয়ন করবেন, বেকার সমস্যার সমাধান করবেন, শিল্পায়নে সাহায্য করবেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেগুলোর কিছুই রাজশাহীবাসী পায়নি।
এ সময় এক ভোটার বুলবুলকে প্রশ্ন করেন যে তার মেয়র থাকাকালীন সময়ে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানো হয় কিন্তু তার নির্বাচনী ইশতেহারে হোল্ডিং ট্যাক্স কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা করেননি। এরপরের প্রশ্ন রাস্তাঘাটে কেন পরিছন্ন কর্মীদের দেখা যায়নি ? নগরপিতা হিসেবে তার দায়িত্ব ছিল নগরী পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তিনি এরকম কোন পদক্ষেপ নেননি।
কেন এর উত্তর জানতে চাইলে তিনি বলেন যে তার সময়কালে তিনি ৩৪ মাস জেলে ছিলেন। অর্থাৎ তার নিজের কৃতকর্মের ফল অনেকটা নিজেই স্বীকার করে ফেললেন। তার অপকর্ম, দুর্নীতির জন্য তাকে বেশিরভাগ সময়ই কারাবাসে থাকতে হয়েছিল।
আরেক বাসিন্দা বলেন পানির কল থেকে বিশুদ্ধ পানির বদলে কালো কাদা পানি বের হয়। তিনি কেন এর ব্যবস্থা নেননি? জিরোপয়েন্টে রোড ডিভাইডার করা হয়েছে। একটা সাইকেল পর্যন্ত যেতে পারে না। হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগ হয়। এগুলো কেন আপনার চোখে পড়েনি? মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এসব প্রশ্নের কোনো যুক্তিযুক্ত, সঠিক উত্তর দিতে পারেননি।
রাজশাহী একটি শিল্প নগরী হওয়া স্বত্বেও শিল্পায়নে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। রাজশাহীর পোলট্রি ফার্ম এসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন গত পাঁচ বছরে শিল্পায়নে কোনো সুযোগ সুবিধা দেয়া হয়নি। এমনকি রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিমানবন্দরও নেই। গত পাঁচ বছরে তিনি কেন এরকম কোনো উদ্যোগ নিতে পারেননি?
নদীমাতৃক দেশ আমাদের এই বাংলাদেশ। ছোট বড় অনেক নদী বয়ে গেছে এই দেশের সীমারেখার ভিতর। শহরের বর্জ্য পানি পদ্মা ও বারনই নদীতে গিয়ে পড়ছে। নদী দূষিত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার মানুষ ভুক্তভোগী হচ্ছে। নদীর পানি রক্ষা ও পরিবেশ বাঁচানোর জন্য সিটি কর্পোরেশন থেকে এরকম কোনো পদক্ষেপ কেন নেয়া হয়নি প্রশ্ন করেন এক সচেতন নাগরিক। এমনকি যুব সমাজের জন্য কর্মমুখী শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা তিনি করেননি।
অধিকাংশ নগরবাসী মনে করেন, নগরীর উন্নয়নের থেকে তার কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তার নিজের আখের গুছানো।