ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে দেড় কোটি টাকা আত্মসাৎ: নড়াইলের ৩০ যুবক সর্বশান্ত

0
235
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : আর্মির সিভিল কর্মকান্ডে যোগদানের ভুয়া নিয়োগ পত্র প্রদান করে নড়াইলের ৩০ জন বেকার যুবকের কাছ থেকে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। এ ঘটনায় কালিয়ার নড়াগাতি এলাকার রমজান সিকদারে নামে প্রতারনার অভিযোগ উঠেছে। এলাকারবাসির চাপের মুখে কয়েক মাস আগেই গাঁ ঢাকা দিয়েছে এই রমজান সিকদার। সব মহলে জানাজানি হয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এলাকার আরো কিছু দুষ্ঠ চক্রের সহায়তায় সালিশ মধ্যস্ততায় মীমাংশা করতে ব্যস্ত ঐ প্রতারক চক্রটি। অসহায় কৃষি পরিবারের বেকার যুবকদের সরকারি চাকুরির আশায় সর্বস্ব হারিয়ে টাকা ফেরতের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে তারা। এদিকে যুবকদের কেউ কেউ আত্ম হননের পথ বেঁচে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এলাকাবাসি।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মাউলী গ্রাম। এই গ্রামের বেকার যুবক রিপন অধিকারী, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এলাকার ইউপি মেম্বর বাসুদেব এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর সিভিল এর অফিস সরকারী পদে চাকরীর জন্য সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা দেন। ডিসেম্বর মাসে মিরপুর সেনানিবাসের একটি কফিসপে তার হাতে একটি নিয়োগপত্র দেয়া হয় সেখানে এ বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারী কাজে যোগদানের কথা। যোগদান করতে গিয়ে দেখে নিয়োগপত্রটি ভূয়া। একই ভাবে এই গ্রামের অনুপ সরকার, দেবাশীষ পালও সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা দিয়ে ভূয়া নিয়োগপত্র পেয়েছে, কিন্তু চাকুরী পায়নি।
এদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চাকুরীর গ্যারান্টি দেয় মাইলী ইউপি মেম্বর বাসু দেব। মহাজন বাজারের অজয় বিশ্বাস, মোবাইল ফ্লেক্সিলোড এর দোকান। সরকারি চাকুরি তাও আবার সেনাবাহিনীর সিভিলের মালি পদের জন্য কাঠাদুরার রমজান সিকদারের কাছে দেন ৩ লক্ষ টাকা, তিনিও ঢাকা থেকে নিয়োগপত্র নিয়ে চাকুরী পাননি।
কলাগাছি গ্রামের এরশাদ শেখ। ভাগিনা আবু তাহের গাজী এবং শালা হিরাঙ্গির গাজীকে সেনাবাহিনীর মালি পদে চাকুরী দেওয়ার জন্য ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা নেয় রমজান। বিনিময়ে তাদের ২ জনকে মালি পদে চাকুরীর ২টি নিয়োগপত্র দেন। নিয়োগ পত্রে লেখা ঠিকানা অনুযায়ী ঢাকা মিরপুর সেনানিবাসে গেলে জানতে পারেন রমজানের নিয়োগ পত্রটি নকল। এতগুলো টাকা দিয়েও চাকুরী না পেয়ে ইতিমধ্যে কয়েকদফা অসুস্থ হয়ে পড়েছে আবু তাহের
অভিযুক্ত রমজান শিকদার কালিয়া উপজেলার কাঠাদুরা গ্রামের মৃত সবর শিকদার এর ছেলে। রমজানের শ্যালক সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার আহাদুজ্জামান। আহাদের নাম ভাঙ্গিয়ে কালিয়া,লোহাগড়া ও গোাপলগঞ্জ এর প্রায় ৩০ বেকার যুবকের কাছ থেকে ৫থেকে ৭ লাখ আর্মির সিভিল বিভাগে নানা পদে (অফিস সহকারী, মালি, কুক) চাকুরী দেবার কথা বলে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ জনকে আর্মির সিভিলে ধোপা, বাবুর্চী, সুইপার পদে ভূয়া নিয়োগ পত্র প্রদান করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রমজানের বাড়িতে গিয়ে ও মোবাইলে যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি। রমজানের স্ত্রী আছিয়া খাতুনের সাথে সরাসিরি এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সবকিছু এড়িয়ে বলেন এ বিষয় আমি কিছুই জানি না।
এদিকে ঢাকা সেনাসিবাসে কর্মরত ওয়ারেন্ট অফিসার আহাদুজ্জামান (এসিসি ক্লার্ক, এএফডি) এর সাথে মোবাইলে (০১৭৫৮৭২৬১৫৩) যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার স্ত্রী প্রথমে ফোন ধরেন। ঘন্টা খানেক পর ফোন করলে ফোন কেটে দেয়।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাই তিনি বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রতিবেদন সেনাবাহিনীর নিকট পাঠানোর আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, এর আগেও এ এলাকা হতে সঞ্চয়ের নামে চলন্তিকা নামের একটি বেসরকারি সংস্থা কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়। ঐ ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের মধ্য হতে কেউ ভারত পাড়ি দিয়েছে, আবার কেউ কেউ জেল হাজতেও রয়েছে। কিন্তু আত্মসাতের কোন টাকা আজও ভুক্তভোগি কেউ ফেরত পায়নি। এ সব চক্রের মুলহোতা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here