কমরেড অমল সেনের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী : অমল সেন স্মরণমেলা

115

NK_January_2016_072নড়াইল কণ্ঠ : নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ইতিহাসখ্যাত নড়াইলের তে-ভাগা আন্দোলনের অগ্রপথিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড অমল সেনের ১৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রবিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুর ২টায় ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র উদ্যোগে নড়াইলের সীমান্তবর্তী বাঁকড়ীতে কিংবদন্তীতুল্য এই নেতার সমাধিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক , সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

এ সময় কমরেড অমল সেনের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, বাংলাদেশ সামাজতান্ত্রিক দল বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, গণতান্ত্রিক পার্টি, কমিনিউষ্ট কেন্দ্র, গণ আজাদী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসমূহের নেতৃবৃন্দ।

পুষ্পস্তবক অর্পন শেষে ‘কমরেড অমল সেন স্মৃতি রক্ষা কমিটি’র সভাপতি ও ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুারো সদস্য কমরেড ইকবাল কবীর জাহিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কমেেরড ফজলে হোসেন বাদশা এমপি।

NK_January_2016_071অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখবেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস, কমরেড হাফিজুর রহমান ভুঁইয়া, সাতক্ষীরা-১ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, নড়াইল-২ আসনের এম,পি কমরেড এ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমান, সিপিবি নেতা কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাসদ নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণতন্ত্রী পার্টি নেতা ডা: শহীদুল্লাহ, ন্যাপ নেতা এ্যাডভোকেট এনামুল হক, জাসদের এ্যাডভোকেট রবিউল ইসলাম, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের ডা: অসিত বরণ রায়।

সভা পরিচালনা করবেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও নড়াইল জেলা সম্পাদক কমরেড এ্যাড. নজরুল ইসলাম। ১৮ জানুয়ারী রোববার অনুষ্ঠিত হবে কৃষক সমাবেশ।

এছাড়া আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যায় আবৃতি, গণসঙ্গীত, গণনাটক ও গণ সংগ্রাম ভিত্তিক চলচিত্র প্রদশর্নী হবে এবং সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে লোকজ মেলা। সারা দেশ থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা ও কর্মীবৃন্দ এই মেলায় যোগ দেন।

NK_January_2016_073কমরেড অমল সেন ১৯১৪ সালের ১৯ শে জুলাই আউড়িয়ার প্রখ্যাত রায় পরিবারে মামা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন নড়াইলের আফরার জমিদার পরিবারের সন্তান। নবম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত অবস্থায় বৃটিশবিরোধী সশস্ত্র বিপ্লবী ‘অনুশীলন’ গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্কিত হন। দৌলতপুর বিএল কলেজে গনিতশাস্ত্রে অনার্স অধ্যয়নরত অবস্থায় মার্কসবাদী আদর্শে উদ্বুদ্ধ হন এবং নড়াইলে ফিরে এসে কৃষক আব্দোলন করার কাজে আত্মনিয়োগ করেন। পিতাNK_January_2016_074র জমিদারী, অর্থ সম্পত্তি বিত্ত বৈভব তাঁকে কখনো আকৃষ্ট করতে পারেনি। তিনি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন মানব জীবনের সর্ব্বোচ্চ প্রাপ্তি হতে পারে মানব সমাজের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করা তথা শ্রমজীবী মানুষের শোষণ মুক্তির লড়াইতে অংশগ্রহণ করা। তিনি সারাজীবন নিজেকে এ সংগ্রামে নিয়োজিত রাখেন।পাকিস্তান শাসনামলের ২৪ বছরের মধ্যে ১৯ বছরই তাঁকে কারান্তরালে কাটাতে হয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ মুক্তিকামী জনতা তাঁকে যশোর কারাগার ভেঙ্গে মুক্ত করে । এরপর স্বাধীনতা আন্দোলনে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করেন। ২০০৩ সালের ১৭জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে ঢাকা কমিউনিটি হাসপাতালে অকৃতদার এই বিপ্লবী নেতা মৃত্যুবরণ করেন।