রাসিক নির্বাচনে কে এই মেয়র প্রার্থী?

40

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজাকারের সন্তান। রাজশাহী মুক্তিযোদ্ধা সংসদ তাকে এ আখ্যা দিয়েছে।
এদিকে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি । তিনি বিএনপি প্রার্থী। তার পেশা ব্যবসা। ২০১৩ সালে নির্বাচনের সময় তার ছিল নগদ ৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তবে গেল পাঁচ বছরে এ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে দাড়িয়েছে ৪২ লাখ ৩০ হাজার। বিভিন্নভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে জানাগেছে,স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৮০০ টাকা। যদিও মাছ চাষ করে বছরে তার আয় মাত্র ৬ লাখ টাকা। বুলবুলের নিজের আছে ২৫ ভরি স্বর্ণ; যা স্ত্রীর চেয়েও বেশি। স্ত্রীর আছে ২০ ভরি। তবে নিজের কোনো বাড়ি নেই। তার নামে হত্যাসহ ১২টি মামলাও আছে।
বিএনপির মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ ২০১১ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ১২টি মামলা হয়েছে। মামলার মধ্যে পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ সরকার হত্যা, বিস্ফোরকদ্রব্য ও নাশকতা। পুলিশ কনস্টেবল সিদ্ধার্থ সরকার হত্যা মামলায় ইতিমধ্যে চার্জসিট হয়েছে। সে মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন। বাকি ৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। বাকি ৪ টি মামলা হাইকোর্ট থেকে স্থগিত করে রাখা হয়েছে। এছাড়াও জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রার্থী হাবিবুর রহমানের নামে রয়েছে ১টি মামলা। বিশেষ করে বুলবুলের বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা দায়ের করা হয়েছে সবগুলোই রাজশাহীর থানা ও আদালতে। বাংলাদেশ জাতীয়পার্টির মনোনীত মেয়র প্রার্থী হাবিবুর রহমানের নামে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণার মামলা রয়েছে, যা বিচারাধীন।
জানা গেছে, মেয়র পুলিশ সিদ্ধার্থ সরকার হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা শাখা পুলিশের পরিদর্শক মো. নূর হোসেন খন্দকার ৯০ জন আসামির মধ্যে তদন্ত সাপক্ষে ৮৮ জনকে অভিযুক্ত করেন। বাকি দু’জনের নাম-পরিচয়ে মিল না থাকায় তাদের চার্জসিট থেকে বাদ দেয়া হয়। তদন্তে এজাহার নামীয় আসামির বাইরে আরও একজনের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৮৯ জনে। পরে এই মামলায় চার্জসিট দাখিল করা হয়।
জানা গেছে, শুধু বুলবুলই নয় এবার বিএনপি থেকে যেসব কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচন করছেন তাদের বেশিরভাগেরই বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা রয়েছে। অধিকাংশ কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগ একের অধিক মামলা রয়েছে। বেশির ভাগই বিচারাধীন রয়েছে। নাশকতা মামলায় বিএনপির বেশি কয়েকজন কাউন্সিলর জেল খেটেছেন। বিশেষ করে ২০১৩ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত এসব মামলা হয়েছে। বিএনপির সরকার পতনের ডাক দিয়ে কর্মসূচি পালন করে। এসময় জ¦লাও পোড়াও পেট্রোল বোমা দিয়ে গাড়ি পোড়ানো, পুলিশের সাথে সংঘর্ষসহ বিভিন্ন কারণে মুলত এসব মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় কাউন্সিলর আনোয়ারুল আজব আজীম, প্যানেল মেয়র ও নারী কাউন্সিলর নুরুন্নাহারসহ বেশ কিছু কাউন্সিলর জেল খেটেছেন।
রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিয়ার রহমান জানান, প্রার্থীদের মামলা থাকলে কোনো সমস্যা নেই। তবে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে যদি কোনো মামলায় আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারী থাকে তবে সেক্ষেত্রে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। তিনি জানান, মেয়র বা কাউন্সিলর পদে যারা এবার অংশ নিচ্ছে তাদের হলফনামা পুলিশ দিয়ে তদন্ত করে নেয়া হয়েছে। যেসব প্রার্থী হলফ নামায় মামলার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন তাদের মামলাগুলোর অবস্থাও খতিয়ে দেখা হয়েছে। যদি প্রার্থীরা হলফ নামায় মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত থাকার পর উল্লেখ না করে সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে তার প্রার্থীতা বাতিল করা হবে।
এদিকে মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে নাশকতার অভিযোগে মামলা নগরীর ৪ থানায় ৯টি রয়েছে। মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ইতিমধ্যে অনেক মামলায় চার্জসিট দেয়া হয়েছে। তবে মেয়র বা কোনো কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী নেই বলে জানান তিনি।