উচ্চশিক্ষার প্রসারে সরকারের ভূমিকা

0
18
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

২০০৯ সালের ৬জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার শপথের পর থেকে এ পর্যন্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পরিচালনা খাতে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা ও উন্নয়ন খাতে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন খাতের শতভাগ সরকারকেই বহন করতে হচ্ছে, বরাদ্দের বেশিরভাগ ব্যয় হয় সাড়ে এগার হাজার শিক্ষক এবং ১৬ হাজার কর্মকর্তা ও ১৮ হাজারের ওপর কর্মচারীর বেতন-ভাতা দিতে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বর্তমান সরকারের সাত বছরে ব্যাপক গতি সঞ্চার হয়েছে। দেশে বর্তমানে শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ২০১৬ সালের শুরুতে অনেকগুলো আবেদন থেকে নতুন আরো ৯টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উচ্চ শিক্ষার প্রসার ও বিস্তারে ভূমিকা রাখবে। আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়নে সচেষ্ট বর্তমান সরকার। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ১৯৯২ এবং ১৯৯৮ সালের সংশোধিত আইন ত্রুটিপূর্ণ এবং অসম্পূর্ণ হওয়ায় ২০১০ সালে বেসরকারি আইন নতুনভাবে প্রণীত হয়েছে। নতুন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আলোকে উচ্চ শিক্ষার মান উন্নীতকরণসহ উচ্চ শিক্ষার ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে। শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকল শর্তপূরণের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শর্তপূরণ করে মান অর্জন করেছে। শিক্ষার মান ও পরিবেশ উন্নত করার লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহকে বার বার সতর্ক করা হয়েছে। নিজস্ব ক্যাম্পাসের জন্যও বলা হচ্ছে। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় জমি কিনে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণ করে নিজস্ব ক্যাম্পাসে কার্যক্রম শুরু করেছে।
উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুণগতমান নিশ্চিতকরণ ও তা বিশ্ব পর্যায়ে উন্নীতকরণের লক্ষ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর আলোকে ‘অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল ফর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিজ ২০১২’ বিধানমালা প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন করা হবে।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রত্যাশিত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে। বর্তমান সরকারের সাত বছরে শিক্ষাঙ্গনের অশান্ত পরিস্থিতিকে দ্রুত স্বাভাবিক করে তোলা হয়েছে। সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্ব অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলা এবং তাদের মধ্যে সুস্থ মানসিকতা ও উচ্চ মানসম্পন্ন মনন সৃষ্টি করা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব। মুক্তচিন্তার চর্চা, সত্যের অনুসন্ধানের মাধ্যমে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সমস্যা সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলাও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তব্য। এসব লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রথম শ্রেণির বিদ্যাপীঠে পরিণত করতে সহায়ক হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here