নড়াইলে ভূমি কর্মকর্তাকে পেটানোর ঘটনায় পেড়লি ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা: কর্মকর্তাকে হত্যার হুমকি, ফের থানায় জিডি

58

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের কালিয়ার পেড়লি ইউপি চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্যা ব্যক্তিগত সুবিধা এবং চাঁদা না পেয়ে উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তাকে সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমানকে পিটিয়েছেন। শুধু পিটিয়েই তিনি থেমে থাকেননি সন্ত্রাসী চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্যা। তিনি অবৈধ সুবিধা ও চাঁদা না পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভাংচুর ও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিড়ে অফিস তছনছ করেছেন। এমন অভিযোগে চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্যাকে আসামি করে আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন পেড়লী ইউনিয়ন উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান। গত ৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করার পর হতে ঐ উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান নিজ কার্যালয়ে যেতে পারছেন না। তাকে নানাভাবে হত্যা ও নির্যাতনের হুমকী দিয়ে যাচ্ছে চেয়ারম্যান এর সন্ত্রাসী বাহিনী। হুমকীর ঘটনায় পুনরায় ১০ জুলাই কালিয়া থানায় আবারও সাধারণ ডায়েরী করেন ঐ ভূমি কর্মকর্তা।
এলাকাবাসী জানায়, গত ১৫ বছর ধরে পেড়লী এলাকায় সন্ত্রাস,মাদক, জুয়ার আখড়া প্রতিষ্ঠা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্যা। এছাড় তিনি শালিসের নামে নারীদের নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে নানাভাবে শারীরিক নির্যাতন ও ব্যবহারও করেন বলে অভিযোগ রয়েছে এলাকাতে।
এর আগে খড়রিয়া বাজারে একটি মেলায় জুয়া খেলার ছবি তুলতে গেলে নড়াইলের দুইজন টিভি সাংবাদিককে বেধড়ক পিটিয়েছিলেন এবং সাংবাদিকের ব্যবহৃত ভিডিও ও স্টীল ক্যামেরা ভাংচুর ও ছিনিয়ে নেয় এই সন্ত্রসী জার্জিদ। তিনি চেয়ারম্যান হওয়ার পরপরই এলাকায় হত্যা এবং লুটের নেতৃত্ব দেন। তার নামে হত্যা ও লুটের মামলা সহ ৭/৮টি মামলা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের দোতলায় চেয়ারম্যানের জুয়া এবং মাদকের আখড়া বসে নিয়মিত। এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করলেও ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেন না। মাদক সহ নানাবিধ অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকলেও পুলিশ ও আটকাতে পারছেনা জার্জিদ মোল্যাকে। একাধিক মামলার আসামী জারজিদ মোল্যা তার অপকর্ম চালিয়ে গেলেও কেউ বাধা দিতে আসে না, এলাকাবাসির প্রশ্ন- জার্জিদদের খুটির জোর কোথায়?
জানাগেছে, কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ২/৩ মাস আগে থেকে চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ৩ জুলাই সকাল ১১ টার দিকে চেয়ারম্যান একদল লোক সাথে নিয়ে পেড়লী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে গিয়ে তার কাছে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেয়ায় তারা ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমানকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করে এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ছিড়ে ছুড়ে ফেলে নষ্ট করে দেয়।
এদিকে উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমানকে হত্যার হুমকী অস্বীকার করে চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্যা বলেন, তহশীলদার সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান খাজনা বাবদ ভূমি মালিকদের কাছ থেকে বেশি টাকা নিয়ে কম টাকার দাখিলা প্রদান করেন। গ্রামবাসীকে নিয়ে সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমানের দুর্নীতি ও অর্থ বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খড়রিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, চেয়ারম্যান জারজিদ একজন চাঁদাবাজ প্রকৃতির লোক। তার সাথে যারা ঘুরে-ফেরা করে তারা প্রত্যেকেই সন্ত্রাসী প্রকৃতির, এদের পক্ষে অনেক কিছুই করা সম্ভব। তিনি এর আগে জুয়া খেলা ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকদের পিটিয়ে মামলায় জেলও খেটেছেন।
পেড়লী ইউনিয়ন উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তা সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাঁদা না দেয়ায় চেয়ারম্যান দলবল নিয়ে আমাকে মারলো, সরকারি কাগজপত্র নষ্ট করলো, অফিসে আসলে মেরে ফেলা হবে এমন হুমকী দিচ্ছে চেয়ারম্যান। আমি আমার উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছি। জার্জিদের কাছে আমারে আগের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারি ভূমি কর্মকর্তারাও লাঞ্ছিত হয়েছেন।
কালিয়ার সহকারি কমিশনার (ভূমি) এবিএম খালিদ হাসান সিদ্দিকী বলেন, চেয়ারম্যান যে কাউকে মারধোর করে। সরকারি একজন কর্মকর্তাকে হেনস্তা করা হয়েছে, ঘটনাটি বিভাগীয় কমিশনার স্যার জেনেছেন। হত্যার হুমকী দেয়ায় থানায় আবার জিডিও করা হয়েছে।
নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী জানান, চেয়ারম্যান জার্জিদ মোল্যা একজন সন্ত্রাসী। সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে, আমরা চাই এহেন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের যথাযথ বিচার হোক।
নড়াইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশীদ জানান, শুনেছি ঐ ভূমি কর্মকর্তা ভয়ে অফিসে যেতে পারছেন না। এটা বিভাগীয় পর্যায় থেকে অনুমতি নিয়েই মামলা হয়েছে, ঘটনাটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ আকারে দেয়া হবে। ব্যাপারটা আমরা হালকাভাবে দেখছি না।
নড়াইলের পুলিশ সুপার মো.জসিম উদ্দিন পিপিএম জানান, ঘটনাটি শুনেছি, মামলা হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।