খালেদার গোপন চিরকুটে বিএনপি’র মধ্যে কোন্দলের সৃষ্টি

46

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হয়ে গত আট ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। জানা গেছে, কারাগারে থাকার পরও বেগম জিয়া বিভিন্ন চিরকুটের মাধ্যমে নেতাদের নির্দেশ দিচ্ছেন যার ফলে বিএনপির নেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা সমস্যা। অনেকে বলছে চিরকুট খালেদা জিয়া লিখেছে আবার অনেকেই বলছে চিরকুট অন্য কেউ লিখেছে। এ নিয়ে অনেক দিন ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। চিরকুটকে ঘিরে দলের মধ্যে কোন্দলের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ চিরকুট খালেদা হতে প্রাপ্ত দাবি করলেও তা মানতে নারাজ অন্যান্য সিনিয়র নেতারা। কৌশল অবলম্বন করে দলকে ভেঙ্গে নিজে দলীয় প্রধান হতে চাচ্ছেন মির্জা ফখরুল এমন দাবী সিনিয়র নেতাদের। সরকার বিরোধী আন্দোলনে ফখরুল ইসলামের নীরব ভূমিকা এবং ভীরু পদক্ষেপে অনেক আগে থেকেই তার উপর চটে আছেন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে ফখরুল খালেদা জিয়াকে সামনে রেখে এ চিরকুট নাটক সাজিয়েছে বলে ধারনা তাদের।
জানা গেছে, গাজীপুরের সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভরাডুবির পর বেগম জিয়ার এ চিরকুট প্রকাশিত হয়। ধারনা করা হচ্ছে, তার আত্নীয়রা তার সাথে কারাগারে দেখা করতে গেলে তাদের মাধ্যমে তিনি এ চিরকুট ফখরুলের হাতে পৌঁছান বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সিনিয়র সদস্য স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ চিরকুট নিয়ে চ্যালেঞ্জ করলে মির্জা ফখরুল বলেন এ চিরকুট খালেদা জিয়াই লিখেছেন। সেই সদস্য বলেন যদি মানুষের স্বাক্ষর নকল করা যায় তাহলে এ চিরকুট কেন নকল করা যাবে না। জানা যায় এ চিরকুটের মাধ্যমে বেগম জিয়া তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত থাকার ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। অনেক সিনিয়র নেতা মনে করছেন বিএনপিকে ধ্বংস করতে বদ্ধ পরিকর মির্জা ফখরুল। তিনি নিজে এ চিরকুট লিখছেন আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে। বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা অভিযোগ করে বলেন তিন সিটিতে ফখরুল যে মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন তা ধামাচাপা দিতেই এই চিরকুট নাটক সাজিয়েছেন তিনি। তাদের দাবী অতীতেও এমন জঘন্য কাজ করে ধরা পড়েছে মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়া তাকে তখন ক্ষমা করে দিয়েছেন। এবার আর তার এহেন কর্মকান্ড বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান সিনিয়র নেতারা।