বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা বৈরী সময় পার করছে

28

দলীয় অন্তঃকোন্দল এবং দুর্বল নেতৃত্বের কারণে গত ১৪ মে অনুষ্ঠিত আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রণ ও তদারককারী সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা শোচনীয় ভাবে পরাজিত হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে ১৪টি পদের মধ্যে ১২টিতেই জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা। আর ২টি পদে জয় পেয়েছেন বিএনপি সমর্থক আইনজীবীরা। এর মধ্যে সাধারণ ক্যাটাগরিতে ৭টি পদের মধ্যে আওয়ামীপন্থী প্যানেল থেকে ৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন। এই প্যানেল থেকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এ্যাডভোকেট আব্দুল বাসেত মজুমদার, এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুয়ায়ুন, এ্যাডভোকেট জহিরুল ইসলাম (জেড আই) খান পান্না, এ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, এ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান, এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বাদল। আর সাধারণ ক্যাটাগরিতে বিএনপিপন্থী প্যানেল থেকে একমাত্র বিজয়ী হলেন সাবেক এ্যাটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী।
বার কাউন্সিল নির্বাচনে চরম ভরাডুবিতে সারাদেশে বিএনপির জেলা বারের কমিটিগুলোতে ভাঙ্গনের আশংকা দেখা দিয়েছে। বিশ্বাস অবিশ্বাসের দোলচলে এখন বিএনপি নেতারা বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। এছাড়া বার কাউন্সিল নির্বাচনে শুধু বিএনপির প্রার্থীরা হারেইনি অনেকের পদও শেষ পর্যন্ত টিকবে কিনা তা নিয়েও দেখা দিয়েছে সংশয়।
বার কাউন্সিল নির্বাচনে ভরাডুবির পর নড়েচড়ে বসেছে বিএনপি। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে বার কাউন্সিল নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সারাদেশে জেলাবারের কমিটিগুলোতে আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিএনপির সিনিয়র আইনজীবী নেতৃবৃন্দরা।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে সারা দেশে বিএনপির যেসকল জেলা বারগুলো বার কাউন্সিল নির্বাচনে আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করতে পারেনি সেসকল জেলা বারের কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে পুনরায় নতুন ভাবে কমিটি গঠন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে ৩৯ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ইহুদি ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল এর দিল্লি সফর বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছে বিএনপি। উল্লেখ্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদার জিয়ার মুক্তির জন্য এবং রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লবিং করার জন্য ১৩ জুলাই দিল্লিতে কার্লাইলের সংবাদ সম্মেলন করার কথা ছিল। দেশ থেকে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র আইনজীবীরও দিল্লিতে কার্লাইলের সাথে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু কার্লাইলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদে ইন্ধন দেয়ার অভিযোগে ভারত সরকার তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বাংলাদেশের বার কাউন্সিল নির্বাচনে বিএনপি পন্থী আইনজীবীদের ভরাডুবি এবং কার্লাইল বিতর্ক নিয়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বিএনপির সিনিয়র আইনজীবী সহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।