কোটা বাতিল চূড়ান্তে সময় প্রয়োজন: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

39

কোটার নতুন রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। তিনি বলেছেন, ‘বিষয়টি সহজ নয়। কিছুটা জটিল। আগের বিষয়গুলো আরো বিচার-বিশ্লেষণ করে নতুন সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত রূপ দেয়ার কাজে কিছুটা সময় লাগবে।’
সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ঘোষণা দেয়ার পর এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় রোববার, ১ জুলাই থেকে ফের আন্দোলনে নামে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। আন্দোলনকারীরা কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার শিকার হন।
কোটার অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন। আমাদের লেভেল পর্যন্ত এখনো এটা ট্রান্সমিটেড হয়নি।

তিনি বলেন, আপনারা বিষয়টি যত সহজভাবে দেখছেন বা বিশ্লেষণ করছেন, বিষয়টি তত সহজ নয় কিছুটা জটিল। এটা অনেক বিচার-বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে, সেই আলোকে আমরা পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করব।
কতদিনে এটা চূড়ান্ত হবে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, এটা আমাদের পক্ষে অনুমান করা কঠিন।
এটা কি দীর্ঘমেয়াদি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার- জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন- জি, জি একটু সময় লাগবে মনে হচ্ছে।
কমিটির বিষয়ে শফিউল আলম বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করিনি। হবে, আশা করি খুব দ্রুতই হবে, ইনশাআল্লাহ।
বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ। বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ রয়েছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে, সেক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধীদের নিয়োগের বিধান আছে।
কোটা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি আন্তরিক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কোটা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন বলেও জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।