কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা: অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ ঘোষণা

0
17
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নূরুল হক নূরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।শনিবার (৩০ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এই ঘটনা ঘটে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা মুহম্মদ রাশেদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হামলার প্রতিবাদে সারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খাঁন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। রবিবার ১ জুলাই থেকে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘আমাদের সংবাদ সম্মেলনে বাধা ও হামলার প্রতিবাদে রবিবার থেকে সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন এবং সারাদেশে বিক্ষোভ ও অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।’
কোটা সংস্কার নিয়ে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে। এ সময় তাদের বাধা দিয়ে দফায় দফায় মারধর করা হয়।
এই হামলায় আন্দোলনকারীদের ছয়জন আহত হন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলেন- ইংরেজি বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ও কোটা আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নুর (২৪), আব্দুল্লাহ (২৩), আতাউল্লাহ (২৫), সাদ্দাম হোসেন (২৫), সাহেদ (২৫) এবং হায়দার।
কোটা সংস্কারে আন্দোলনকারী নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগ নেতারাই তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা ছিল। ছিল ৪০ শতাংশ জেলা ও ক্ষতিগ্রস্ত নারী কোটা ১০ শতাংশ। পরে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্তদের বদলে সব নারীর জন্য এবং জেলা কোটা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। সংযোজন হয় পাঁচ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর কোটা এবং এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা।
নানা সময় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন ব্যর্থ হয়েছে। তবে এবার কোনো বিশেষ কোটার কথা না বলে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে মাঠে নামে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন। তারা সব মিলিয়ে কোটা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার দাবি জানতে থাকে।
গত ৮ এপ্রিল রাজধানী শাহবাগ এবং পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পর আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আর ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ঘোষণা দেন, কোনো কোটাই থাকবে না।
এরপর থেকে কোটা আন্দোলনকারীরা নানা সময় কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপনের দাবি জানিয়ে আসছে।
কয়েকটি দেশ সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী ২ মে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, তিনি কোটা বাতিলের বিষয়ে যে কথা বলেছেন, সেটা পাল্টাবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here