৪০ বছর পর ইরানি মেয়েদের ওপর নিষেধাজ্ঞা কাটল রাশিয়া বিশ্বকাপে

43

নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অন্তত দুটি প্রজন্মের নারীরা স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতে পারেননি। সেই নিষেধাজ্ঞা কেটে গেছে রাশিয়া বিশ্বকাপে। ৪০ বছর পর প্রথমবারের মতো পুরুষদের পাশে বসে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে পারছে ইরানের মেয়েরা। স্টেডিয়ামে ঢোকার এই রাষ্ট্রীয় অনুমতি গোটা দেশের জন্য অর্জনের মাইলফলক হয়ে উঠেছে।
রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় পায় ইরান। হারায় আফ্রিকার দেশ মরক্কোকে। বাকি দুই ম্যাচের সবকটিতেই হার। তাতে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে দলটিকে। কিন্তু বিদেশ বিভূঁইয়ে ইরানি নারীরা দেশের ফুটবল দলকে উৎসাহ দিতে চেষ্টার কমতি করেননি।
মাঠে ধর্মীয় অনুশাসন ছিল না। ছিল না বাড়তি চাপ। সে কারণেই পোশাক নিয়েও এতটা মাথা ঘামানোর প্রয়োজন হয়নি তাদের।
ইরানের যেসব মেয়ে আগে কেবল ঘরে বসে টেলিভিশনে খেলা দেখত, তারা এখন সুযোগ পাচ্ছে ঘরের বাইরে বের হওয়ার। রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরানের রাজধানী তেহরানের আজাদি স্টেডিয়ামে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর আয়োজন করা হয়। সেখানে নারী-পুরুষ একসঙ্গে খেলা দেখেছে। সংখ্যাটা ছিল প্রায় ১০ হাজারের মতো।
১৯৭৯ সালে আয়াতুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে বিপ্লবের পর ইরানে ইসলামী শাসনতন্ত্র কায়েম হয়। সে সময় থেকেই স্টেডিয়ামে পুরুষদের সঙ্গে বসে নারীদের খেলা দেখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চলছে। টানা ৪০ বছর পর সেই নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে দেশটি।
নিষেধাজ্ঞার বছরগুলোতেও নারীরা স্টেডিয়ামে বসে খেলা দেখতেন। সে ক্ষেত্রে তাদের কৌশল অবলম্বন করতে হতো। বিভিন্ন সময়ে তাদের পুরুষের ছদ্মবেশ ধারণ করে জাতীয় পতাকা হাতে দলকে সমর্থন দিতে দেখা গেছে। সেগুলো পরে সরকার টেরও পেয়েছে।