তারেক রহমান তিন একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন, তদন্তের নির্দেশ

53

নড়াইল কণ্ঠ : খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লন্ডনে পলাতক বিএনপি নেতা তারেক রহমানের তিনটি বিদেশি একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রেক্ষিতে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাজ্যে কেন্দ্রীয় সিক্রেট ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস, যা এমআই৬ নামে বেশি পরিচিত।
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার ব্যাংক শাখা, সুইজারল্যান্ডের ইউবিএস ব্যাংক ও লন্ডনে বার্কলেস ব্যাংকের কিংস্টন ক্ল্যারেন্স স্ট্রিট শাখায় বিগত দুই মাসে পৃথক পৃথকভাবে সর্বমোট ২৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। আর এই লেনদেনকে অস্বাভাবিক বলে আখ্যায়িত করে এমআই৬’র এক কর্মকর্তা বলেন, কোনো একটি সঞ্চয়ী ব্যাংক একাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ লেনদেনের নির্ধারিত মাত্র রয়েছে। কিন্তু তারেক রহমানের বার্কলেস ব্যাংকের একাউন্টে অস্বাভাবিক সংখ্যায় লেনদেন হয়েছে। যেটি আমাদের সন্দেহের অন্যতম কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। একজন রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা স্বদেশে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর একাউন্টে এই পরিমাণ লেনদেন অবৈধ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। আমরা বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছি। তদন্তে কোন রকম অনিয়ম পাওয়া গেলে তারেক রহমানকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
সূত্রের খবরে জানা গেছে, একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর বিদেশি একাউন্টে বাংলাদেশ থেকে কিভাবে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হয়, সেটি বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুসন্ধান করার জন্য অনুরোধ করেছে এমআই৬ কর্তৃপক্ষ।
লন্ডন বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, লন্ডনে বার্কলেস ব্যাংকের কিংস্টন ক্ল্যারেন্স স্ট্রিট শাখায় তারেক রহমানের একটি একাউন্ট রয়েছে। সঞ্চয়ী হিসাবে সেই শাখায় লেনদেন করতেন তারেক। বিগত এক-দেড়মাসে সেই একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নেয় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। যাচাই-বাছাই করে তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সাহায্য ও সহযোগিতা হিসেবে পাওয়া টাকা বলে, কোন রকম পার পেয়ে যান তারেক রহমান। পরবর্তীতে আবার বাংলাদেশি টাকায় ১০ কোটি লেনদেন হওয়ায় নতুন করে তদন্তের জন্য তারেক রহমানের একাউন্টের লেনদেন স্থগিত করেছে বার্কলেস ব্যাংক। পাশাপাশি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংকে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামীর নামে কিভাবে বাংলাদেশ থেকে টাকা পাচার হয়, সেটি খতিয়ে দেখার জন্য বিশেষ অনুরোধ করেছে।
এদিকে, মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর স্ট্যান্ডার্ড চার্টার ব্যাংক শাখা, সুইজারল্যান্ডের ইউবিএস ব্যাংকের তারেক রহমানের একাউন্টেও অস্বাভাবিক লেনদেনের চিত্র লক্ষ্য করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দুটি একাউন্টে পৃথকভাবে ১০ কোটি টাকা করে বেনামে জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছে দুটি ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ। এই দুটি বিদেশি একাউন্টের কাগজে তারেক রহমান নিজেকে একজন রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। একজন শরণার্থী যিনি তার দেশে একাধিক ফৌজদারী মামলার আসামী, তার একাউন্টে কিভাবে এতটাকা জমা হয় সেটি নিয়েও একধরনের ধোয়াশায় পড়েছে ব্যাংক দুটির কর্তৃপক্ষ। দুটি দেশও বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এই বিষয়ে তদন্ত করার জন্য অনুরোধ করেছে।
লন্ডন সূত্রের খবরে জানা গেছে, ব্যাংক একাউন্টের তদন্তের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় ভয়ের মধ্যে আছেন তারেক রহমান। অবৈধ টাকা লেনদেনে জড়িত থাকা প্রমাণিত হলে, জেলও হতে পারে তারেক রহমানের। তাই লন্ডনে অবস্থানরত বিদেশি বন্ধুদের সাথে ক্রমাগত যোগাযোগ রাখছেন তারেক। কোনমতেই জেল খাটতে চান না তারেক। বিদেশে জেল খাটলে তো এই জনমে আর দেশে ফিরতে পারবেন না তারেক রহমান।