আটটি ‘শারীরিক’ কারণে যৌনতার আগ্রহ কমে যায় দাম্পত্যে

47

দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যের জন্য চমৎকার যৌন সম্পর্ক নিঃসন্দেহে খুব জরুরী। কিন্তু সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকে থাকে কি দাম্পত্যের রোমান্স? বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর হচ্ছে- “না”। কমবেশি সকল দম্পতিই অভিযোগ করেন যে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই আগের প্রেম ও আকর্ষণ কোথায় যেন হারিয়ে গেছে। কিছু দম্পতি ভুগে থাকেন আরও একটু বেশি, দেখা যায় দাম্পত্য থেকে হারিয়ে গেছে যৌনতাই।আর সেই যৌনতাবিহীন সম্পর্ক আস্তে আস্তে ঠেলে দেয় হতাশা, পরকীয়া, দাম্পত্য কলহ, এমনকি তালাকের দিকেও। কিন্তু কীভাবে সমাধান হবে এই সমস্যার? সমাধান তখনই সম্ভব, যখন জানা থাকবে সত্যিকারের কারণগুলো। কেবল মানসিক নয়, অনেকগুলো শারীরিক কারণেও এমনটা হতে পারে যা জানেন না অনেকেই।

টেস্টোস্টেরনের স্বল্প মাত্রা
শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন স্বল্প উৎপন্ন হলে তা যৌন আকাঙ্ক্ষায় প্রভাব ফেলে থাকে। অনেকেই মনে করেন এই হরমোন কেবল পুরুষের যৌনতায় প্রভাব ফেলে। ধারণাটি একদম ভুল টেস্টোস্টেরন হরমোন নারী দেহেও উৎপন্ন হয় যা নারীর যৌনাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে। টেস্টোস্টেরনের স্বল্প মাত্রা যৌন জীবনে অনীহা নিয়ে আসে।

কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা
অনেকের ক্ষেত্রেই অতীত জীবনের অভিজ্ঞতা বর্তমানের যৌন সম্পর্কে মারাত্মক প্রভাব ফেলে থাকে। যৌন হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হওয়া, পর্নগ্রাফি বা যৌনতা বিষয়ক কোন স্মৃতি, সঙ্গীর কাছে কোনভাবে হাসি-তামাশার শিকার হওয়া ইত্যাদি কারণে অনেকেরই যৌনতা হারিয়ে যায় দাম্পত্য থেকে। বিশেষ করে নারীরা এই সমস্যাগুলোয় তুলনামূলকভাবে বেশিই ভুগে থাকেন।

ঔষধ
কিছু বিশেষ ঔষধও যৌন জীবনে অনীহা সৃষ্টি করে থাকে। যেমন, জন্ম নিয়ন্ত্রক পিল ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বাড়ায়, ফলে টেস্তোস্টেরনের কার্যকারিতা বাঁধাপ্রাপ্ত হতে পারে। অন্যদিকে বিষণ্ণতা ও এংজাইটির বেশ কিছু ওষুধ নিয়মিত সেবনেও কমে যেতে পারে যৌন আকাঙ্ক্ষা।

দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা
অনেকদিন যাবত অসুস্থতায় ভুগলে স্বভাবতই ক্লান্তি ও অবসন্নতা এসে ভর করে শরীরে। এতে স্বাভাবিক ভাবেই যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যায়। অসুস্থতা ছাড়াও রোজকার জীবনে বিশ্রামের অভাব, প্রচণ্ড কাজের চাপেও যৌন জীবন বাঁধাপ্রাপ্ত হয়।

হরমোনের তারতম্য
মেনোপজের সময়ে হরমোনের মাত্রায় বড় ধরণের পরিবর্তন আসে, ফলে যৌন অভিজ্ঞতা হতে পারে তিক্ত ও বেদনাদায়ক। যৌন আকাংখাও এই সময়ে কমে যায়। এছাড়াও গর্ভাবস্থা বা সন্তানকে স্তন্যদান করার সময়েও অনেক নারীর মাঝে এই পরিবর্তন আসতে পারে। কোন অসুখের ফলে হরমোনের মাত্রায় তারতাম্য হলেও কমে যেতে পারে যৌন আকাঙ্ক্ষা।

শরীর নিয়ে হতাশা
নিজের শরীর নিয়ে অনেকেই ভুগে থাকেন নানান রকমের হতাশায়। যদি সেটা কোন কারণে বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, বা সঙ্গী যদি শরীর নিয়ে কোন রকমের বিরক্তি প্রকাশ করেন, তাহলে অনেকেরই যৌন আকাঙ্ক্ষা চলে যায়। বরং এক রকমের ভীতি তৈরি হয়, সঙ্গীর সাথে নিজেকে প্রকাশ করতে দ্বিধা কাজ করে। উল্টো দিকে সঙ্গীর প্রশংসা আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং যৌনতা আগ্রহী করে তোলে।

মানসিক রোগ
বিষণ্ণতা যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দেয়। স্ট্রেস, এংজাইটি, অতিরিক্ত ক্রোধ সহ অসংখ্য মানসিক সমস্যাতেই যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যেতে পারে।

মদ্যপান
অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস পুরুষের যৌন আকাঙ্ক্ষা কমিয়ে দিয়ে থাকে। কমতে কমতে একসময়ে তা শুন্যের কোঠায় চলে যায়। একই সাথে অন্যান্য অনেক মাদকের ব্যবহারেও যৌন চাহিদা কমে যেতে থাকে।

যৌন জীবনে অনীহা মানে এই নয় যে দুজন মানুষের মনের মিল হচ্ছে না। বরং এর অন্তরালে থাকতে পারে অনেক শারীরিক কারণও। তাই সঙ্গীর পাশে দাঁড়ান, কারণটি খুঁজে বের করে সমাধান করুন।

তথ্যসুত্র: ম্যারেজ.কম