ভারতীয় ১৭৮ জেলে অবৈধ অনুপ্রবেশে নৌ পথে পুশব্যাক

143

মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট প্রতিনিধি : বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধ অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের অভিযোগে নৌবাহিনীর হাতে আটক ১৭৮ ভারতীয় জেলেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে গভীর সমুদ্র থেকে পুশব্যাক করেছে নৌবাহিনী ও মংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা। এর আগে মঙ্গলবার বিকালে স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে বাগেরহাট কারাগার থেকে এসব ভারতীয় জেলেকে গ্রহন করে ভারতীয় দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটরী রমাকান্ত গুপ্ত। পরে তাদের সমুদ্র পথে ১৪টি ফিশিং ট্রলারসহ পুশব্যাক করতে ওই দিন রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বাগেরহাটের মংলা থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌবাহিনী ও মংলা কোস্টগার্ড সদস্যরা গভীর সমুদ্র থেকে ভারতীয় এসব জেলেদের পুশব্যাকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ লুৎফর রহমান।

বাগেরহাট পুলিশ অফিসের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম জানায়, গত বছরের ২৪ আগষ্ট থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় নৌবাহিনীর সদস্যরা বঙ্গোপসাগারে বাংলাদেশের জলসীমায় সুন্দরবন উপকূলের ফেয়ারওয়ে বয়া এলাকা থেকে অবৈধ ভাবে মাছ আহরন কালে ১৪টি ভারতীয় ট্রলারসহ ১৭৮ জন জেলেকে আটক করে। পরে আটককৃত জেলেদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জলসীমায় অনুপ্রবেশ করে মাছ শিকারের অভিযোগে মংলা থানায় মামলা দায়ের করা হলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দেয়। সেই থেকেই আটক এসব ভারতীয় জেলে বাগেরহাট কারাগারে আটক ছিল। আটক জেলেদের বিষয়ে ভারত সরকারের অনুরোধে বাংলাদেশ সরকারের স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয় মামলা প্রত্যাহার করে পুশব্যাকের মাধ্যমে ভারত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। স্বরাস্ট্র মন্ত্রনালয়ের নির্দেশ পাবার পর মঙ্গলবার দুপুরে ভারতীয় জেলেদের বাগেরহাট কারাগার থেকে গ্রহন করেন ভারতীয় দূতাবাসের ফাস্ট সেক্রেটরী রমাকান্ত গুপ্ত। পরে তাদের সমুদ্র পথে ১৪টি ফিশিং ট্রলারসহ পুশব্যাক করতে ওই দিন রাতে বাগেরহাটের মংলা থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়। আটক ভারতীয় জেলেদের ১৪টি ফিশিং ট্রলার চলাচলের উপযোগী ও চর থেকে নামাতে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত সময় লেগে যায়।

বাগেরহাটের মংলা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টায় আটক এসব ভারতীয় জেলেদের নৌবাহিনী ও মংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা পাহারা দিয়ে বঙ্গোপসাগরের উদ্যেশে রওনা দেয়। পরে দুপুর ১২টায় ১৪টি ফিশিং ট্রলার এফভি স্বর্ণ কোভা, এফভি ত্রিপাদি, এফবি সত্য নারায়ন, এফভি দক্ষিনেস্বর, এফভি লক্ষী নারায়ন, এফভি প্রদীপ, এফভি দশভূজা, এফভি নয়ন, এফভি মা সন্ধ্যা, এফভি লক্ষী নারায়ন-২, এফভি মা-মঙ্গল চন্ডি-১৪, এফভি মা-মঙ্গল চন্ডি-১৩, এফভি কাঞ্চন কামিনি ও এফভি প্রসেনজিৎ-এ করে এসব জেলেকে গভীর সমুদ্র থেকে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা ভারতের জলসীমায় পুশব্যাক করে। এরপর ভারতের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড সদস্যরা দুপুরে পুশব্যাক কারা জেলেদের গ্রহন করে নিয়ে যায়। পুশব্যাক করা এসব ভারতীয় জেলেদের বাড়ী পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বিভিন্ন এলাকায়।