বিমান ছিনতাইয়ের ভুল সংকেত পাইলটের, পরপরই লঙ্কাকাণ্ড

39

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক: বিমান ছিনতায়ের ভুল সংকেতের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি পুলিশ, সোয়াত টিম ও এফবিআইয়ের উচ্চ প্রশিক্ষিত সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। বিমানবন্দরে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা।
যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে জেট ব্লু এয়ারওয়েজের একটি বিমানের পাইলট ভুলবশত বিমান ছিনতাইয়ের সংকেত দেওয়ার পর বিমানটিকে ঘিরে হুলস্থুল কাণ্ড ঘটেছে।
২৬ জুন, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় লস অ্যাঞ্জেলেসের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে বিমানটির ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু উড্ডয়নের কিছুক্ষণ আগে পাইলট বিমানের রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থার সামান্য ত্রুটির কথা জানতে পারেন। নিয়ন্ত্রণ সেন্টারের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে পাইলটরা বেশ কিছু সংকেত ব্যবহার করে থাকেন। নিয়ন্ত্রণ সেন্টারে রেডিও ব্যবস্থার ত্রুটির সংকেত দিতে গিয়ে পাইলট ভুলক্রমে ছিনতাইয়ের সংকেত দিয়ে দেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি পুলিশ, সোয়াত টিম ও এফবিআইয়ের উচ্চ প্রশিক্ষিত সদস্যরা ঘিরে ফেলেন। তাদের হাতে ছিল ভারী অস্ত্র।
বিমানবন্দরে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা। সম্ভাব্য আহত যাত্রীদের বাঁচানোর জন্য অ্যাম্বুলেন্সও এনে জড়ো করা হয় বিমানের পাশে। পুলিশের ক্রমাগত সাইরেনে পুরো বিমানবন্দরে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রেডিও ব্যবস্থার ওই ত্রুটির কারণে কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলটের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে বিমান ছিনতাইয়ের সন্দেহ আরও ঘনিভূত হয়। পুলিশ ও সোয়াত বাহিনী আরও সতর্কাবস্থায় বিমানটিকে ঘিরে রাখে। ততক্ষণে বিমানের ভেতর থেকে আতঙ্কগ্রস্ত যাত্রীদের টুইটার পোস্ট পরিস্থিতিকে আরও টালমাটাল করে তুলেছিল। বিমানের ভেতর থেকে যাত্রীরা তাদের আতঙ্কজনক পরিস্থিতির কথা সামাজিক মাধ্যমে একের পর এক পোস্ট করছিলেন। অনেকে লাইভও করছিলেন বিমানের ভেতর থেকে।
বিমানের ভেতর থেকে যাত্রীদের করা লাইভ পোস্টে দেখা যায়, ভারী অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত পুলিশ ও সোয়াত সদস্যরা বিমানটির ভেতরে ঢুকছেন।
অ্যালেক্স ক্রুটিস নামের এক যাত্রীর টুইটারে পোস্ট করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সোয়াত সদস্যরা বিমানের ভেতরে ঢোকার পর যাত্রীরা সবাই হাত উঁচু করে আছেন। তার পোস্টে তিনি লিখেন ‘এটি ছিল ভয়ানক দুঃস্বপ্ন। আমরা সবাই ভাবছিলাম মারা যাচ্ছি।’
একজন মুখপাত্র জানান, বিমানটি ছাড়ার কিছুক্ষণ আগে বিমানের রেডিও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ত্রুটি ধরা পড়ে। পাইলট ভুলবশত নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারে ভুল সংকেত পাঠান। পরে আমরা যখন বিমানের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হই, তখন পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারি। যাত্রীদের আশ্বস্ত করা হয় এবং বিমানটিকে পুনরায় চেকআপের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। পরে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি ছাড়াই বিমানটি ছেড়ে যায়।
জানা গেছে, বিমানটিকে ঘিরে প্রায় দেড়ঘণ্টা ধরে এ অচলাবস্থা ছিল।