মেসির আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে

0
21
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার শুধু মেসিকেই কাঁধে তুলে নেননি, পুরো আর্জেন্টিনাকে কাঁধে তুলে নিয়ে গেলেন রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে।
দ্বিতীয় গোলের পর ছুটলেন আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলি। মার্কোস রোহোর কাঁধে চড়ে তখন গোল উদযাপন করে যাচ্ছেন প্রথম গোল করা লিওনেল মেসি। আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার শুধু মেসিকেই কাঁধে তুলে নেননি, পুরো আর্জেন্টিনাকে কাঁধে তুলে নিয়ে গেলেন রাশিয়া বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে। বাঁচা-মরার লড়াইয়ে নাইজেরিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করল মেসির দল আর্জেন্টিনা।

নাইজেরিয়াকে হারালেই হতো না। মাথায় ছিল আইসল্যান্ড-ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচটিও। আইসল্যান্ড জিতলেই বিপত্তি বেঁধে যেত। সেটা হয়নি। আগেই শেষ ষোলো নিশ্চিত করা ক্রোয়েশিয়া ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে আইসল্যান্ডকে। তাই কোনো হিসাব কষতে হয়নি। রাশিয়া বিশ্বকাপে পাওয়া প্রথম জয়ের স্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে নকআউট পর্বের টিকেটও মিলে গেছে আর্জেন্টিনার।
প্রথম ম্যাচে পেনাল্টি মিস। পরের ম্যাচে মাঠে থেকেও ছিলেন না লিওনেল মেসি। জাদু কী, তার পায়ে ছন্দই দেখা যায়নি। কিন্তু দলের যখন ভীষণ প্রয়োজন, তখনই আলোক বর্তিকা হাতে ছুটলেন ফুটবল জাদুকর। দেখালেন তার পায়ের জাদু। তবে এবার বা পায়ে নয়, ডান পায়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণদূর্গ ভেঙেছেন তিনি। এ কারণেই হয়তো ম্যাচ শেষে মেসি বলেছেন, ‘আমি জানতাম ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে আছে এবং ছেড়ে যাবেন না।’
সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে এদিন শুরু থেকেই অন্য আর্জেন্টিনার দেখা মিলেছে। মনেই হয়নি আগের দুই ম্যাচে এলোমেলো ফুটবল খেলে নিজেদের স্বপ্নকে বিবর্ণ করে তুলেছে তারা। জায়গা পাল্টে জাতীয় সংগীতে অংশ নেওয়া লিওনেল মেসির চোখ-মুখ এদিন আর হতাশায় ডোবা ছিল না। অথচ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জাতীয় সংগীতে মন না দিয়ে চোখ বুজে কপালে হাত বুলিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই মেসিই নাইজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেন নতুন উদ্যমে, নতুন চেহারায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা চেহারায় মেসি। আগের দুই ম্যাচের মতো মাঠে মেসিকে অনুপস্থিত মনে হয়নি। শুরু থেকেই বল নিয়ে সোজা দৌড় শুরু করেছেন নাইজেরিয়ার রক্ষণভাগের দিকে।
প্রথমার্ধে কেবল আর্জেন্টিনাই খেলেছে। নাইজেরিয়া সেভাবে পাত্তাই পায়নি মেসি-রোহোদের সামনে। ম্যাচের সাত মিনিটে আক্রমণে যায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু এভার বানেগার পাস থেকে বল পেয়ে নিকোলাস তাগলিয়াফিকোর শট গোলপোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটে নাইজেরিয়ার আক্রমণ। আহমেদ মুসার শট অনেক উপর দিয়ে চলে যায়।
গোলের সন্ধানে মরিয়া আর্জেন্টিনা এগিয়ে যেতে বেশি সময় নেয়নি। ১৪ মিনিটে আর্জেন্টাইনদের আনন্দে মাতান প্রাণভোমরা মেসি। এভার বানেগার লম্বা পাস থেকে পাওয়া বল অসাধারণ দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নাইজেরিয়ার জালে জড়িয়ে দেন মেসি। গোল দেওয়ার পর কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। অবশ্য এর মাঝেও সুযোগ বুঝে নাইজেরিয়ার রক্ষণভাগে হানা দিয়েছে তারা। তবে গোলের দেখা মেলেনি।
১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া নাইজেরিয়া যেন নতুন উদ্যোমে মাঠে নামে। গোলশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে তারা। ৪৯ মিনিটে গিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিপদে ফেলে দেন জাভিয়ের মাশ্চেরানো। নাইজেরিয়ার কর্নার কিকের সময় লিওন বালোগানকে টেনে মাটিতে ফেলে দেন মাশ্চেরানো। পেনাল্টির বাঁশি বাজার রেফারি। স্পটকিক থেকে গোল করে নাইজেরিয়াকে সমতায় ফেরার ভিক্টর মোজেজ।
মুহূর্তেই যেন বিশ্বকাপ স্বপ্ন আবারও সাদাকালো হয়ে ওঠে মেসি-ডি মারিয়াদের। কিন্তু এই মিশনে খেই হারায়নি তারা। দাঁতে দাঁত রেখে লড়ে গেছেন। ৮০ মিনিটে গিয়ে গোলের সহজ সুযোগ মিলে যায়। কিন্তু বরাবরের মতো এবারও সবাইকে হতাশ করেন গঞ্জালো হিগুয়েন। মার্কোস রোহোর পাস থেকে বল পেয়ে আকাশে তুলে মারেন আর্জেন্টাইন এই স্ট্রাইকার।
সহজ সুযোগ হতাছাড়া করার এই হতাশা বেশি সময় আর্জেন্টিনা শিবিরে থাকতে দেননি মার্কোস রোহো। ৮৬ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মারকাদোর ক্রস থেকে বল পেয়ে মহামূল্যবান গোল করে আর্জেন্টিনাকে উল্লাসে মাতান ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলা এই ডিফেন্ডার। বাকি কয়েক মিনিটে গোলের জন্য হন্যে হয়ে ফেরা নাইজেরিয়া আর গোলের দেখা পায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here