মানসিক প্রতিবন্ধী চুমকি’র চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন বিশিষ্টজনেরা

87

নড়াইল কণ্ঠ : মেয়েটি সামাজিক ও পারিবারিক প্রতিবন্ধিকতার স্বীকার হয়ে সে এখন মানসিক প্রতিবন্ধী। ভাগ্যহত এই মেয়েটির নাম চুমকি। বাবার বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের সীমাখালী গ্রামে। সেখানে তাদের আপন জন না থাকায় নড়াইল শহরের গো হাটখোলার বস্তিতে দুঃসম্পর্কের এক আত্মীয়ের ঘরে থাকে। ১০ বছর আগে তার জন্মদাতা পিতা মারা যায়। মা জীবিত। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ার পর মা অন্যত্র বিয়ে করে সেখানে ঘর করছেন। মা আর মেয়ে চুমকি’র খোঁজখবর নেয় না। ‘চুমকি’ কখনও মা-বাপের স্নেহে, আদর, যত্ন,মায়া-মমতা কি জিনিস সে পায়নি। বুঝতে না শিখা বয়সে হতে ‘চুমকি’ পারিবারিক ও সামাজিকভাবে অযতœ-অবহেলায় বস্তিতে বেড়ে উঠেছে। প্রকৃতির নিয়মেই সে এখন কিশোরি। এখন সে নড়াইলে সর্বত্র পরিচিত।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘হৃদয়ে নড়াইল’-এর কয়েক বন্ধু ‘কিশোরি এই মেয়েটিকে রক্ষা করুন’ এ ধরনের একটি পোষ্ট দেওয়ার পর কয়েকজন তার চিকিৎসাসহ সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্বে এগিয়ে এসেছেন।
হৃদয়ে নড়াইল-এর এডমিন এফ.এম আমিরুল ইসলাম লিটু জানান, মেয়েটির চিকিৎসা হবে ঢাকা মানসিক হাসপাতালে। তাকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে এসেছেন ইউ, এস বাংলা এয়ারলাইন্সের ডি.এম.ডি মাহবুব ঢালী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সমাজসেবক শেখ মো: আমিনুর রহমান হিমু, ৩ জন আমেরকিা প্রবাসি এবং নড়াইল এক্সপ্রেস ফাউন্ডেশন। সার্বিক দেখাশোনা এবং চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়েছেন যমুনা ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শামীম আহমেদ।
শুক্রবার (২২ জুন) সকাল ১০টায় নড়াইল চৌরাস্তা থেকে ব্যাংকার শামীম আহমেদসহ ১০ জনের একটি দল তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রওনা হয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ এমদাদুল হক চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম, নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর সিদ্দিকী, সাধারন সম্পাদক মীর্জা নজরুল ইসলাম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক শরফুল আলম লিটু, হৃদয়ে নড়াইল-এর এডমিন এফ.এম আমিরুল ইসলাম লিট প্রমুখ।
উল্লেখ্য, হৃদয়ে নড়াইল নামে এ সংগঠন নিজেরা বা চাঁদা তুলে নড়াইলের দরিদ্র মেধাবীদের লেখাপড়া করতে আর্থিক সহায়তা, চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্রদের শাড়ি-লুঙ্গি এবং এতিমদের সহায়তা করে আসছে।