নড়াইলে ৩ বস্তা মেয়াদউর্ত্তীণ ঔষধ উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত

0
137
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র হতে বিভিন্ন ধরনের সরকারি মেয়াদউর্ত্তীণ তিন বস্তা জীবন রক্ষাকারি ঔষধ উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১১ জুন) দুপুরে এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত ফার্মাসিষ্ট মৃত্যুঞ্জয় রায়ের নিকটে স্টোরে মজুদ থাকা অবস্থায় এ ৩বস্তা মেয়াদউর্ত্তিণ ঔষধ এবং তারিখবিহীন ২বস্তা কটন জব্দ করেন লোহাগড়ার উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এম. এম আরাফাত হোসেন। এলাকাবাসির ধারনা এছাড়া আরো ঔষুধ হাসপাতালের পিছনের পুকুরে ফেলা হয়েছে। তল্লাশি করলে বেরিয়ে আসতে পারে।
নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এম. এম আরাফাত হোসেন আরো জানান, অভিযানকালে যতটুকু দেখেছি তাতে প্রতিয়মান হয়েছে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত ফার্মাসিষ্ট মৃত্যুঞ্জয় রায় যথাযথ সরকারি নিয়ম নীতি অনুসরণ না করে ঔষধ গুলো ব্যবহার করেননি, এমনকি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকেও এ বিষয় অবহিত করেননি। তিনি এগুলি অসৎ উদ্দেশ্যে করেছেন বলে মনে হয়েছে। আমি এ বিষয় আমার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসককে অবহিত করবো। তিনি বিষয়টি যেভাবে নির্দেশনা দিবেন সেইভাবে কাজ হবে। তিনি আরো জানান, জব্দকৃত মেয়াদউর্ত্তিণ তিন বস্তা ঔষধ পরবর্তীতে যদি কোন আইনি ব্যবস্থার প্রয়োজনে উপস্থাপন করা লাগে মর্মে আলাদা একটি কক্ষে কর্তব্যরত ফার্মাসিষ্ট মৃত্যুঞ্জয় রায়ের নিকট হেফাজতে রাখা হয়েছে।
লাহুড়িয়ার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র হতে ৩ বস্তা মেয়াদউর্ত্তিণ ঔষধ উদ্ধারের খবর লাহুড়িয়া বাজারে ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ লাহুড়িয়া এ কেন্দ্রে এসে ভিড় করে। এ সময় উত্তেজিত জনগণ চিৎকার করে শ্লোগান দিতে থাকে এবং ঘটনার সঠিক তদন্ত করে অসৎ কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান হয়। এক পর্যায় উত্তেজিত জনতার চাপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের সাথে আসা পুলিশ সদস্যদের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে লাহুড়িয়ার বাজার কমিটির সভাপতি রুহল মোল্যা অভিযোগ করে বলেন, এরা সব চোরের দল, এরা কারো সাথে ভাল ব্যবহার পর্যন্ত করে না। কেউ চিকিৎসা নিতে আসলে তাকে ঔষুধ নেই বলে তাড়িয়ে দেয় এবং কথায় কথায় বলে ঔষুধ ফুরই গেছে। অথচ আজ শুনছি তিন বস্তা ঔষুধ ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। এদের তো শুলে চড়ানো উচিৎ।
ডহরপাড়ার বেলাল জানান, এ মানুষের সাথে ভাল ব্যবহার করে না। ওরা হাসপাতালের পিছনের পুকুরে এর আগেও ঔষুধ ফেলে দিয়েছে।
এগারনলি’র মামুন জানান,এ হাসপাতালে ফার্মাসিষ্ট মৃত্যুঞ্জয় রায় সপ্তাহে মাত্র ২/৩ দিন আসেন, তাও সময় মতো আসেন না।
ডহর পাড়ার ডা: জালু জানান, ফার্মাসিষ্ট মৃত্যুঞ্জয় রায় ঔষুধ না দিতে পারলে তিনি স্বস্তি পায়। পাশাপাশি তিনি বলেন হাসপাতালের ঔষুধের চেয়ে বাজারের ঔষুধ ভাল, আপনারা বাজার থেকে ঔষুধ কিনে খান।
একই এলাকার ইজাজুল জানান, আমি একদিন ঔষুধ নিয়ে বাজারে গিয়ে দেখি ঐ ঔষুধের মেয়াদ নেই।
আব্দুর রহমান জানান, সরকারি ঔষুধ যারা নষ্ট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূরক শাস্তি হওয়া দরকার।
কর্তব্যরত ফার্মাসিষ্ট মৃত্যুঞ্জয় রায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, আমি এ বিষয় আমি লিখিতভাবে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানাইনি। আমার ভুল হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার, ১জন স্যাকমো, ১জন ফার্মাসিষ্ট এবং ১জন অফিস সহায়কের বিপরিতে কাজ করছেন ২জন। তার একজন ফার্মাসিষ্ট এবং অন্যজন অফিস সহায়ক। এর আগে ডা: মহিউদ্দিন নামের একজন মেডিকেল অফিসার গত ২০১৪ সালের মে মাসে যোগদান করে ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এখান থেকে বদলী হয়ে যান। এ সময়কালেও উল্লেখিত সমস্যা সমূহ উপস্থাপন করা হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here