ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জনের জন্মবার্ষিকীতে নড়াইলে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা

94

নড়াইল কণ্ঠ : ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্তের ১০৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (৮ জুন) দুপুরে ‘মনিকা একাডেমি’র আয়োজনে শহরের পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় শিশুদের চিত্রাংকন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং পুরষ্কার প্রদান করা হয়।
মনিকা একাডেমির উপদেষ্টা চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা হায়দার আলী। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের সহকারী অধ্যাপক বেলাল সানী, নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মলয় কুন্ডু, জেলা পাবলিক লাইব্রেরীর সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলাম পান্তু, চিত্রশিল্পী এস এম আলী আজগর, ইতনা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও চিত্রশিল্পী নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাস, আবৃত্তিকর শেখজাদী নাঈমা জব্বারী, মনিকা একাডেমির উপদেষ্টা ফরহাদ খান, একাডেমির পরিচালক সবুজ সুলতান, সহকারী পরিচালক মনিকা আক্তার লতা, আবৃত্তি প্রশিক্ষক মোছাব্বির হোসেন মুরাদ, সুরাইয়া শারমীন বন্যা, বাংলাদেশ তরুণ লেখক পরিষদ নড়াইল জেলা শাখার সভাপতি হৃদয় হোসেন, সদস্য দ্বিজেন্দ্র লাল রায়, সদর উপজেলা তরুণ লেখক পরিষদের সদস্য সোহেল হাসান নিবিড়, ঋদ্ধি আজগর ঝিলিক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নীহার রঞ্জন গুপ্ত জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক হলেও তিনি অবহেলিত। তার স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সরকারি ভাবে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই জানেন না, নীহার রঞ্জন গুপ্ত কে? তিনি কি ছিলেন? এদিকে, মনিকা একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক সবুজ সুলতান নিহার রঞ্জন গুপ্তের ব্যাপারে পাঁচ দফা দাবী তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে-নীহার রঞ্জন গুপ্তকে জাতীয় ভাবে স্বীকৃতি দেয়া, নীহার রঞ্জনের উপন্যাসসহ অন্যান্য লেখা প্রকাশ করা ও কলেজ পর্যায়ে সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত, ইতনা গ্রামে জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন, নীহার রঞ্জনের প্রতিকৃতি স্থাপন এবং একুশে পদক প্রদান করা।
জানা যায়, ১৯১১ সালের ৬ জুন নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নীহার রঞ্জন গুপ্ত। বাবার নাম সত্যরঞ্জন গুপ্ত ও মায়ের নাম লবঙ্গলতা দেবী। নীহার রঞ্জন গুপ্ত গোয়েন্দা ও রহস্য কাহিনী লেখক হিসেবে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি চিকিৎসক হিসেবেও স্বনামধন্য। নীহার রঞ্জন গুপ্তের উপন্যাসের সংখ্যা দুইশতেরও বেশি। এছাড়া তার অন্তত ৪৫টি উপন্যাস চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। নীহার রঞ্জন গুপ্ত ১৯৮৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রামে ঔপন্যাসিক নীহার রঞ্জন গুপ্তের আপনজন কেউ নেই। পৈত্রিক বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ভগ্নদশায় থাকার পর ২০১৭ সালে সংস্কার করা হয়েছে। তার পৈত্রিক ভিটায় রয়েছে দ্বিতল বাড়ি, পুকুরসহ গাছপালা।