নড়াইলে মাদক আটক বাণিজ্যে ২ পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড

98

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়ায় মাদকের নামে আটক বাণিজ্যের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তা ক্লোজড হয়েছেন। তাঁরা হলেন লোহাগড়া থানার এএসআই মো. ইসমাইল হোসেন ও এএসআই সুজন ফকির। গত শনিবার (২৬ মে) রাতে লোহাগড়া থানা থেকে তাঁদের ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে নেওয়া হয়। এএসআই সুজন ফকিরের মোবাইল নম্বর ট্রাকিং করলে প্রকৃত সত্যতা বেরিয়ে আসবে এমনটা দাবি ভুক্তভোগির।
থানা পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, জয়পুর গ্রামের আবু সাইদ বাবুলের ছেলে আবু নাইম আকাশকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছে ১০ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। বিক্রি করতে এগুলো নাইম কাছে রেখেছিলেন। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় লোহাগড়া বাজারের পশ্চিমপাশে জয়পুর মোড় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আবু নাইমের মা রেকসোনা পারভীন বলেন, নাইমের সাথে তাঁর এক বন্ধু গল্প করছিলো। এ সময় দু’জনকে ওই দুই পুলিশ অফিসার ধরে থানায় নিয়ে যায়। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে নাইমের বন্ধুকে থানা থেকে রাত ১০টার দিকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে। কিন্তু নাইমকে ছেড়ে দিবে বলে চার হাজার টাকা নিয়েও তাঁকে ছাড়েনি। টাকা দাবি করেছিল আরো বেশি। পরে ফোনে এএসআই সুজন ফকিরের সাথে কথা হয়। সুজন ফকির আমাকে বলেছেন ”চার হাজার টাকা দেওয়ায় ১০ পিচ ইয়াবার মামলা হয়েছে, টাকা না দিলে ৫২ পিচ ইয়াবার মামলা হতো।” এসব বিষয় আমি নড়াইলের পুলিশ সুপারকে জানাই। তারপর ওই দুই পুলিশ অফিসার টাকা ফেরত দিতে আমার বাড়িতেও গিয়েছিলো। আমাকে না পেয়ে ফিরে গেছে।
রেকসোনা পারভীন আরো বলেন, নাইম মাদকের সাথে জড়িত না। সে ঢাকায় পড়াশোনা করে। কয়েকদিন আগে বাড়িতে এসেছে। আমরা গরীব মানুষ। আমার একমাত্র সন্তান নাইমের জীবন পুলিশ শেষ করে দিলো।
নাইমের প্রতিবেশি ও স্থানীয় লোকজন জানান, নাইম মাদকের সঙ্গে জড়িত তা কখনো শোনা যায়নি। ওইদিন একইসঙ্গে নাইমসহ দুজনকে পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে এএসআই সুজন ফকির ও এএসআই মো. ইসমাইল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের নাম ভাঙিয়ে তৃতীয় পক্ষ এই চার হাজার টাকা নিয়েছে। আমরা নেইনি। আর তখন দু’জন না, একজনকেই ধরেছি।