নড়াইলে সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট পেশ

0
49
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি নড়াইলে এক সংবাদ সম্মেলনে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেট পেশ করেছে। শনিবার (২৬ মে) সকাল ১১টায় নড়াইল প্রেস ক্লাবের সেমিনার কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আব্দুল হাই সিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো: মনিরুজ্জামান মল্লিক। ২০১৮-১৯ এ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেট উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগি অধ্যাপক শাহানারা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেটে ১২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট পেশ করা হয়। এ বাজেট অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত বাজেট চেয়ে প্রায় আড়াইগুণ বেশি। বিকল্প বাজেট প্রস্তাবে মোট বাজেটের ৯ লাখ ৯০ হাজার ৮২০ কোটি টাকা আসবে রাজস্ব আয় থেকে। এর মধ্যে সরাসরি রাজস্ব বোর্ড নিয়ন্ত্রিত কর ৭ লাখ ২৯ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা, রাজস্ব বোর্ড বর্হিভূত কর ২ লাখ ৬০ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা এবং অবশিষ্ট ২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ঘাটতি দেখানো হয়েছে।
এ সময় সংগঠনের অন্যান্য সহযোগিসহ নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যাপক মো: রবিউল ইসলাম, সহযোগি অধ্যাপক ড. সায়েম আলী, সহযোগি অধ্যাপক মো: জিয়া আনসারী ইংরাজি বিভাগীয় প্রধান সহকারি আনন্দ মোহন কুমার বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহানারা বেগম বলেন, ‘বাজেট প্রণয়নে আমরা সংবিধানের বিধানসমৃহকে ভিত্তিহিসিবে ধরে নিয়েছি।’ ‘বরাবরের মতোই এবারের বাজেটের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জ ও দুর্বল দিক হলো সময়মত এবং মানসম্মত বাস্তবায়ন।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়নের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করতে প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও সরকারি বিভাগকে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। অন্যথায় তাদের শাস্তির বিধান করতে হবে।’
প্রস্তাবিত বিকল্প বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা। এই বরাদ্দের ৫৮ শতাংশ অর্থ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খাতে ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে, জনপ্রশাসন খাতে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৬৮ হাজার কোটি টাকা, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, স্বাস্থ্যখাতে ৮৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা এবং সামাজিক নিরাপত্তাখাতে ৭২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রস্তাবিত ঘাটতি বাজেটের অর্থ বৈদেশিক ঋণের পরিবর্তে নতুন কয়েকটি খাত থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। খাতগুলোর মধ্যে বন্ড বাজার থেকে ৪৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা, সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগের মাধ্যমে ১ লাখ কোটি টাকা, দেশীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং ৬০ হাজার কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণ করে ঘাটতি মোকাবেলা করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও ১২ লাখ ১৬ হাজার ৪০০ কোটি টাকার বাজেটে অনুন্নয়ন খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ১৪ হাজার ২৬৫ কোটি টাকা, উন্নয়ন ব্যয় দেখানো হয়েছে ৬ লাথ ৬৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রোনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিসহ সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here