নড়াইলে পানচুরির দায়ে তাঁতশ্রমিক নির্যাতনের স্বীকার

114

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের শেখহাটির তপনবাগে খাসজমি থেকে উচ্ছেদ এবং পান চুরির মিথ্যা অপবাদে মধু সুধন নামের এক তাঁত শ্রমিক শারীরিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। মধু সুধন দে (৫৫) নড়াইল সদরের শেখহাটি তপনবাগ গৌর দে’র ছেলে।

এ ঘটনার ৪দিন পর শুক্রবার (৮ জানুয়ারী) দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় কতিপয় যুবক মধু সুধনসহ স্ত্রী-পুত্রদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মধু সুধন নোয়াপাড়ায় সরদার মিলে তাঁত শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করে।

উল্লেখ, গত সোমবার (৪ জানুয়ারী) আনুমানিক রাত ৩টার দিকে মধু সুধন (৫৫) সরকারী খাস জমিতে নিজ ঘর থেকে ঘুমন্ত অবস্থায় ৭/৮জন দূর্বৃত্তরা তাকে ধরে নিয়ে তপনবাগ সরকারী প্রাইমারী স্কুল মাঠে নিয়ে তাকে পিঠিয়ে রক্তাক্ত ফুলা জখম করে। এসময় মধু সুধনকে সপরিবারে ৭দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি দেয় এবং চিকিৎসা নিতে বাইরে গেলে জীবনে মেরে ফেলা হবে। এ সময় তার স্ত্রী ও দু’পুত্র তাকে (মধু সুধন) বাঁচাতে এগিয়ে গেলে দূর্বৃত্তরা তাদেরকেও শারীরিকভাবে চরমভাবে লাঞ্চিত করে।

জানাগেছে, এঘটনায় ঔরাতেই শেখহাটি ইউপি সদস্য মোশারফের নেতৃত্বে রাজ্জাক মালিথা, দীলিপ, প্রীতিশ, খালেক উপরোল্লেখিত রায় দেয়।

এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, মধু সুধন শেখহাটি এলাকার কাঠলঘাটায় সরকারী খাস জমিতে পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন বসবাস করে আসছিল। ঐজমি থেকে মধু সুধনকে উচ্ছেদের জন্য এলাকার সন্ত্রাসী দূর্বৃত্ত প্রকৃতির লোকদের সহায়তায় রাজ্জাক মালিথা ও পুত্র সাগর মালিথা, কবীর মোড়ল, পিন্টু দত্তসহ ৭/৮জন পান চোরের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে। এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি।

মধু সুধন দের স্ত্রী রেবা রানী দে সাংবাদিকদের আরো জানান, তপনবাগ গ্রামের বাইড়ে মালো’র পুত্র নিল কমল দে’র বরজের দুই পোন রেখে দেয়। আমার স্বামী একজন মিলের তাঁত শ্রমিক। তিনি এধরনের কোন কাজের সাথে কোন দিনও ছিল না।

এদিকে ঔএলাকার এনামুল জানান, মধু সুধন খুব নিরিহ প্রকৃতির একজ শ্রমজীবী মানুষ। তার অপরাধ হলো সরকারী খাস জমিতে বসবাস করা।

এঘটনা সম্পর্কে জানতে শেথহাটি ফাঁড়ি ইনচার্জ এসআই ফারুকের (০১৭১৬৫৯১৭২৭) সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায় নি।