নড়াইলের লোহাগড়ায় আবারও ডাকাতি, একমাসে ১০ বাড়ি

83

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকায় আবারও ডাকাতি হয়েছে। গত শুক্রবার (১৮ মে) দিবাগত রাতে কুন্দশী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আওয়াল শেখের বাড়িতে এ ডাকাতি হয়। আওয়াল শেখ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য। এ নিয়ে গত একমাসে ১০ বাড়িতে ডাকাতি হলো। এসব ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও পুলিশ এগুলো ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সব ডাকাতির ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ। মামলা নিলেও নিয়েছে চুরির মামলা।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, ডাকাতির ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। এ অবস্থায় ডাকাতেরা উৎসাহ পাচ্ছে। বারবার ডাকাতি করছে। এর আগে গত ৯ এপ্রিল দিবাগত রাতে পৌর এলাকার মোচড়া গ্রামের ইলিয়াছ শেখ এবং ১৬ এপ্রিল দিবাগত রাতে গন্ধবাড়িয়া গ্রামের ফকির সাহিদুজ্জমানের বাড়িতে ডাকাতি হয়। গত ৮ মে দিঘলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রামে গভীররাতে আগ্নেয়স্ত্রের মুখে একই মহল্লায় পাঁচ বাড়িতে ডাকাতি হয়। এর আগে লুটিয়া ও কোটাকোল গ্রামে দুই বাড়িতে ডাকাতি হয়েছে। এসব বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে ডাকাতেরা।আওয়াল শেখ জানান, ডাকাতেরা মোট প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ১টি মুঠোফোন, কাপড় ও অন্যান্য মালামাল লুটে নিয়েছে। ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল কলাপসিবল গেটের তালা ভেঙ্গে ঘরে ঢোকে। তাঁদের একজনের হাতে পিস্তল ছিল। অন্য সবার হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। সবাই ছিল মুখোশ পরা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সবাইকে এক কক্ষে আটকে রেখে ডাকাতেরা নারীদের গায়ের গহনা খুলে নিয়েছে। আলমারি ও শোকেস ভেঙ্গে মালামাল লুট করেছে। ঘরের সব মালামাল তছনছ করেছে।
আওয়াল শেখের স্ত্রী সাফিয়া বেগম বলেন, তাঁর ছোট নাতির গলায় ছোরা ধরে ডাকাতেরা পুত্রবধূ ফারজানার গায়ের গহনা খুলে নিয়েছে। ফারজানা ছেলের সঙ্গে ঢাকায় থাকেন। বাড়িতে ঈদ করার উদ্দেশ্যে রমজানের শুরুতেই এসেছেন। এখন ভয়ে ঢাকায় চলে যেতে চাচ্ছে। ফারজানা বলেন, এ অবস্থায় বাড়িতে থাকা যায় ?। সবার মধ্যে আতঙ্ক কাজ করছে।
আওয়াল শেখের ভাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার শেখ আব্দুর রউফ বলেন, এমন দুধর্ষ ডাকাতি হয়েছে। কিন্তু থানা পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক।