নড়াইলের পুলিশের সহায়তায় বাড়িছাড়া এক’শ পরিবার বাড়ি ফিরলো

187

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার পারমল্লিকপুর গ্রামের খুনের ঘটনায় বাড়িছাড়া প্রায় এক’শ পরিবারের সদস্য জেলা পুলিশের সহায়তায় বাড়িতে ফিরেছে। গত ২১ এপ্রিল ওই গ্রামের খায়ের মৃধা (৩৫) খুন হওয়ার পর এক মাস ধরে ওই পরিবারগুলো বাড়িছাড়া ছিল। শুক্রবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলার পারমল্লিকপুর গ্রামের এসব পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। এসময় ওই ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে। এ সময় সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসান ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ওই গ্রামে আধিপত্য বিস্তর নিয়ে ইউপি সদস্য উজ্জ্বল ঠাকুর ও সাবেক ইউপি সদস্য হিমায়েত হোসেন পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব-সংঘাত চলছে। নিহত খায়ের মৃধা উজ্জ্বল ঠাকুর পক্ষের।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী বাড়িছাড়া পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা গত বৃহস্পতিবার (১৭ মে) বিকেলে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁরা বাড়িতে উঠতে পারছেন না এ বিষয়ে অবহিত করেন। এর প্রেক্ষিতে তাঁদেরকে শুক্রবার সকাল ১১টায় খলিশাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জড়ো হতে বলা হয়। সেখান থেকে তাঁদের সঙ্গে করে পুলিশ বাড়িতে তুলে দেয়।
ওই বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে শুক্রবার দুপুরে ভুক্তভোগী এসব পরিবারের সদস্যরা সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসানের কাছে তাঁদের ওপর অত্যাচারের কাহিনী তুলে ধরেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, ওই খুনের পর তাদের মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়, পরে বাড়িতে উঠতে গেলেও মারধর করেছে। ঘরের মালামাল ও গরুছাগল লুট করেছে, গাছপালা ও খেতের ফসল কেটে নিচ্ছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ পাঁচজনকে আটক করে নড়াইলে নিয়ে যায়। আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ওই গ্রামের দুলাল ঠাকুর, আনিস ঠাকুর, অকি শেখ, আল আমিন ঠাকুর ও সাইফুল মৃধা।
সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী হাসান বলেন, ওই সব পরিবারের শান্তি বজায় রাখার জন্য যা যা করণীয় সকল ব্যবস্থা করা হবে।