বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচনে সৈয়দ রেজাউর রহমান

64

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক ও পেশাগত বিষয়ের সর্বোচ্চ সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আগামী ১৪ মে অনুষ্টিতব্য নির্বাচনে সাধারণ আসনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের মনোনীত প্যানেল থেকে সদস্য পদে নির্বাচন করছেন অ্যাভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান। এখানে তার ব্যালট নম্বর ২১।এদিকে সৈয়দ রেজাউর রহমান ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার প্রধান কৌসুঁলি। একই সাথে এ নির্বাচনে তাঁর ব্যালট নম্বরও ২১।
সৈয়দ রেজাউর রহমান ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আইনজীবীদের ভালবাসার মানুষ। আগামি ১৪ মে নির্বাচনে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ মনোনীত প্যানেল সারা দেশের আইনজীবীদের ভোটে নির্বার্চিত হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ সিনিয়র আইনজীবী সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এবং আইনজীবীদের কাছে পরীক্ষীতদের প্রার্থী করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা এবার তার পছন্দ মতো প্রার্থী ঠিক করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাদের প্যানেল নির্বাচিত হলে আইনজীবীদের পেশাগত কল্যান এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, অ্যাভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী, বার কাউন্সিলে ইতোপূর্বে ৮ বার নির্বাচিত। যিনি ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ভয়াবহ বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় হতাহতের ঘটনায় আনা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌসুঁলি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নজিরবিহীন ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার বিচার চলছে। ওই ঘটনার শিকার এবং হতাহত ও তাদের স্বজনদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তিনি এর আগেও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে এবং দেশের আইনজীবীদের আস্থাভাজনে তিনি ৮ বার নির্বাচিত হয়েছেন। আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এবং আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন অনন্য অবদান তিনি রেখে চলেছেন।
অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পূর্ব পাকিস্থান তথা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, মুক্তিযুদ্ধে বৃহত্তর কুমিল্লার মুজিব বাহিনীর প্রধান, বর্তমানে দেশের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং ২১ আগষ্ট গ্রেনেড হামলা মামলার প্রধান কৌঁসুলি । তিনি বলেন, তার সঙ্গে ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন নুরে আলম সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন শাহজাহান সিরাজ। তিনি বাংলাদেশ অওয়ামীলীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলেন বিভিন্ন দায়িত্ব সাফল্যে সঙ্গে পালন করেন তিনি।
সৈয়দ রেজাউর রহমান ১৯৭৯ সালে আইনজীবী হিসেবে বার কাউন্সিলে তালিকাভূক্ত হন। ১৯৮১ সালে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে তালিকাভূক্ত হন। তিনি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাধারণ আসনের সদস্য হিসেবে (বয়সের দিক দিয়ে সর্বকনিষ্ঠ) নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একাধারে ৬ বার বার-কাউন্সিলের সাধারণ আসনে সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
আরো উল্লেখ্য যে, ৩ বছরে ১ বার বাংরাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন হয়। পরবর্তীকালে আরো ২ বার নির্বাচিত হন বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাধারণ সদস্য হিসেবে। সর্বমোট ৮ বার নির্বাচিত হন এবং শেষবারের মতো বার কাউন্সিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন ২০১২ সালে।
তিনি ১৯৯৭-১৯৯৮ মেয়াদে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হন। পরপর দু’বার তিনি বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন এবং ১ বার নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়ে মামলা পরিচালনা করছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগষ্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত গ্রেনেড হামলা মামলায় চীফ প্রসিকিউটর হিসেবে মামলা পরিচালনা করছেন।

পারিবারিক জীবনে সৈয়দ রেজাউর রহমানের অর্ধাঙ্গীনী অধ্যাপক মমতাজ বেগম একজন মুক্তিযোদ্ধা ও আইনজীবী। তিনি জাতীয় মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান, মহিলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সহ-সভাপতি, প্রাক্তন সংসদ সদস্য তৎকালীন জাতীয় পরিষদ ১৯৭০, প্রাক্তন সদস্য গণপরিষদ এমসিএ (১৯৭২), প্রাক্তন সদস্য বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ (১৯৭৩)। তাদের কন্যা অ্যাডভোকেট ফারহানা রেজাও আইন পেশায় রয়েছেন। তাদের কন্যা অ্যাডভোকেট ফারহানা রেজাও বিভিন্ন সামাজিক , রাজনৈতিক ও পেশাগত সাংগঠিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনিও তার বাবার সঙ্গে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় সহযোগিতা করছেন।

এদিকে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ১৫তলা ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আইনজীবীদের বেনাভোলেন্ড ফান্ড বৃদ্ধি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত প্যানেলে সাধারণ আসনের প্রার্থীরা হলেন:-
বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের মনোনীত প্যানেলে প্রার্থীরা হলেন- বার কাউন্সিলের বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সৈয়দ রেজাউর রহমান, জেড আই খান পান্না, পরিমল চন্দ্র গুহ ও শ ম রেজাউল করীম। এই সাতজন সাধারণ সদস্য পদে লড়বেন। সাতটি আঞ্চলিক সদস্য পদে আছেন- এ গ্রুপ থেকে কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, বি গ্রুপ থেকে মো. কবির উদ্দিন ভূঁইয়া, সি গ্রুপ থেকে ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, ডি গ্রুপ থেকে এ এফ মো. রুহুল আনাম চৌধুরী, ই গ্রুপ থেকে পারভেজ আলম খান, এফ গ্রুপ থেকে মো. ইয়াহিয়া ও জি গ্রুপ থেকে মো. রেজাউল করিম মন্টু।

বিএনপি ও সমমনা সমর্থক জাতীযতাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেলে সাধারণ সদস্য প্রার্থীরা হলেন :-
সাবেক এটর্নি জেনারেল এ জে মোহাম্মদ আলী, ফজলুর রহমান, তৈমূর আলম খন্দকার, বোরহানউদ্দিন, হেলালউদ্দিন মোল্লা, মো. আব্বাস উদ্দিন ও আসিফা আশরাফী পাপিয়া। অঞ্চলভিত্তিক সদস্য পদে এ গ্রুপ থেকে মো. মহসীন মিয়া, বি গ্রুপ থেকে বাধন কুমার গোস্বামী, সি গ্রুপ থেকে শেখ মোখলেসুর রহমান, ডি গ্রুপ থেকে মো. দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী, ই গ্রুপ থেকে এস আর ফারুক ও এফ গ্রুপ থেকে মো. ইসহাক।

আগামী ১৪ মে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫৭ হাজার। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির ভবন ছাড়াও দেশের জেলা সদর এবং উপজেলা সদরের দেওয়ানি আদালত প্রাঙ্গণ ও বাজিতপুরের কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতি তিন বছর অন্তর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একজন ভোটার মোট সাতটি ভোট দিতে পারেন। বার কাউন্সিল ১৫ জন সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। এর মধ্যে রাষ্ট্রের এটর্নি জেনারেল পদাধিকার বলে এর চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। বাকি ১৪ জন আইনজীবীদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন।

১৪ জনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে একজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সারাদেশে সনদপ্রাপ্ত আইনজীবীদের ভোটে সাধারণ আসনে সাতজন এবং দেশের সাতটি অঞ্চলের লোকাল আইনজীবী সমিতির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন করে সাতজন নির্বাচিত হন।