নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন না মঞ্জুর

84

নড়াইল কণ্ঠ : স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে উদ্দেশ্যমুলক বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে নড়াইলের আদালতে দায়েরকৃত মানহানী মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে দায়েরকৃত মামলায় জামিন না মঞ্জুর করেছে আদালত। মঙ্গলবার (৮ মে) নড়াইলের আমলী আদালতের জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্টেট নয়ন বড়াল জামিন আবেদন না মঞ্জুর করেন।

গত মাসের ১৬ এপ্রিল বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে জামিনের আবেদন করেন বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী এম মাসুদ আহম্মেদ তালুকদার সহ নড়াইল আদালতের বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা। বিজ্ঞ বিচারক ৮ মে বাদীর উপস্থিতিতে জামিন শুনানীর দিন ধার্য্য করেছিলেন।
মঙ্গলবার জামিন শুনানীর সময় বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন এ্যাডভোকেট মোঃ ইকবাল হোসেন সিকদার।
বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সালাম খান জানান, এ মামলায় বেগম খালেদা জিয়ার জামিন না মঞ্জুর হওয়ায় বাদী রায়হান ফারুকী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

মামলার বাদী নড়াইল জেলা পরিষদের ১ নং ওয়ার্ড সদস্য, চাপাইল গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান রায়হান ফারুকী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে ৫০০/৫০১/৫০২ ধারায় নড়াইল সদর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২১/১২/১৫ তারিখ সন্ধ্যায় তিনি ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘স্বাধীনতা যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ হয়েছেন বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কতজন শহীদ হয়েছেন, তা নিয়ে বির্তক আছে। এছাড়া তিনি একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাঁকে ইঙ্গিত করে বলেন ‘‘ তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি’’। বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচারিত হয় এবং পরের দিন ২২/১২/১৫ তারিখে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও জাতির জনকের গৌরবজনক ভূমিকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে উদ্দেশ্যমুলক বক্তব্য দেয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন।

এই মামলায় ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। কিন্তু আদালতে হাজিরা না হওয়ায় মামলা ধার্য্যদিনে বিজ্ঞ বিচারক গ্রেফতারী গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন।
এছাড়াও একই অভিযোগে নড়াইলের আদালতে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে আরো একটি মানহানি মামলা দায়ের করেন শহীদ শেখ জামাল জাতীয় স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও কালিয়া উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ আশিক বিল্লাহ।