এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ : মেয়েদের পাশের হার বেশি

61

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : গত বছরের তুলনায় এবার এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বেড়েছে। এবার পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন।
রবিবার (৬ মে) সকালে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন সব শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানরা।
ফল হস্তান্তরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই। যারা পাস করেনি, তাদেরকেও অভিনন্দন জানাই। কারণ তারাও তো চেষ্টা করেছে।’
পাসের হার হতাশাজনক নয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এবার যেহেতু পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও বেশি, সংখ্যার হিসাবে পাসের হার কিছুটা কম মনে হলেও সেটা খুব হতাশাজনক না। আগামীতে এটা আরও বৃদ্ধি পাবে, সেটা আমি আশা করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হলেও ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ পাস করাও কিন্তু কম কথা না। এটি একটি সফলতা।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘লেখাপড়ার যথাযথ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য যা যা করা দরকার তার সবই করছে সরকার। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম সুশিক্ষিত হোক, উপযুক্ত নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক, দেশের নেতৃত্ব দিক সেটাই আমরা চাই।’
ফলাফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে বরিশাল ও বান্দরবান জেলা প্রশাসন ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন তিনি।
জিপিএ-৫ পাওয়ায় এগিয়ে ছেলেরা, পাসের হারে মেয়েরা
এ বছর ১০ শিক্ষা বোর্ডে মোট ১০ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন ছাত্র এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ৭ লাখ ৮৪ হাজার ২৪৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ৫৫ হাজার ৭০১ জন ছাত্র।
আর ১০ লাখ ৪ হাজার ২৫৪ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে পাস করেছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৫৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৪ হাজার ৯২৮ জন ছাত্রী।

এতে দেখা গেছে, জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররা এগিয়ে রয়েছে। তবে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

এরপর দুপুর ২টা থেকে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ফল জানতে পারবে শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট ও মোবাইল থেকে এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানা যাবে।

শিক্ষার্থীরা www.educationboardresults.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ফল জানতে পারবে।

এসএমএসের মাধ্যমে ফল যেভাবে
SSC লিখে স্পেস দিয়ে, বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে, রোল নম্বর লিখে আবার স্পেস দিয়ে পাসের বছর লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। উদাহরণ: SSC DHA 123456 2018।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের জন্য Dakhil লিখে স্পেস দিয়ে, বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে আবার স্পেস দিয়ে, রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে পাসের সন লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

এসএসসি ভোকেশনালের জন্য SSC লিখে স্পেস দিয়ে, বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে, রোল নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে পাসের সন লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।

উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারা দেশে ও দেশের বাইরে কয়েকটি কেন্দ্রে একযোগে এসএসসি ও সমমানের লিখিত বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ৪ মার্চ পর্যন্ত চলে ব্যবহারিক পরীক্ষা।

মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যনুযায়ী, এ বছর তিন হাজার ৪১২টি কেন্দ্রে মোট ২০ লাখ ৩১ হাজার ৮৮৯ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে। তার মধ্যে ১০ লাখ ২৩ হাজার ২১২ জন ছাত্র ও ১০ লাখ ৮ হাজার ৬৮৭ জন ছাত্রী।