Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আট নেতাসহ ১০ জনের সন্দেহজনক ব্যাংকে লেনদেনের হিসাব তদন্তের যে সিদ্ধান্ত দুদক নিয়েছে তা বিএনপিকে চাপে রাখতেই করা হচ্ছে বলে মনে করেন দলটির নেতারা। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ গতকাল খোলা কাগজকে বলেন, বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখতেই এমনটা করা হচ্ছে। এর পেছনে যে সরকারের হস্তক্ষেপ রয়েছে তা জনগণ ভালো করেই জানে। আর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুদকের কাজে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।
অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চিঠি দিয়েছে। গতকাল বুধবার (৪ এপ্রিল)ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা সামসুল আলম। তিনি বলেছেন, আমরা ব্যাংকগুলোর কাছে তাদের বিভিন্ন সময়ের লেনদেনের স্টেইটমেন্ট চেয়েছি। দুদকের এই তদন্ত নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের বছর ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে হয়রানির লক্ষ্যে’ দুদককে দিয়ে এই কাজ করাচ্ছে সরকার।
গত সোমবার দুদকের উপ-পরিচালক ঋত্বিক সাহা স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে বিএনপি নেতাদের সন্দেহজনক লেনদেন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, ৩০ দিনে তাদের ব্যাংক হিসাব থেকে মানিলন্ডারিং ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে ১২৫ কোটি টাকা লেনদেনসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।
বিএনপির শীর্ষ যেসব নেতার লেনদেন তদন্ত করা হচ্ছে তারা হলেন- দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু, এম মোরশেদ খান, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ও নির্বাহী সদস্য তাবিথ আউয়াল।
একই অভিযোগ আসায় মোরশেদ খানের ছেলে ব্যবসায়ী ফয়সাল মোরশেদ খান এবং ঢাকা ব?্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের বিষয়েও অনুসন্ধান করবে দুদক। পাশাপাশি তাদের সবার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগও অনুসন্ধান করবে দুদক।
অনুসন্ধানের জন্য দুদক উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে দুই সদস্যের অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্য হলেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাহ উদ্দিন। বিএনপির শীর্ষ আট নেতার ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়ে সাত ব্যাংকে দুদক এ চিঠি পাঠায়। ব্যাংকগুলো হচ্ছে- এইচএসবিসি, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, ডাচ্-বাংলা, ন্যাশনাল, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আরব বাংলাদেশ ও ঢাকা ব্যাংক। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যাবতীয় হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ গত মঙ্গলবার বলেছেন, অভিযোগ উঠলে আমাদের সেটা নিতেই হবে। এখন ওই অভিযোগের ভিত্তি আছে কি নেই সেটা তো দেখার সুযোগ (অনুসন্ধানের সময়) দেবেন। কে কী বলল, এটা আমাদের দেখার বিষয় না। অভিযোগ এসেছে, তদন্ত হবে। তদন্ত শেষেই সবকিছু জানা যাবে।
রাজনৈতিক নেতারা এ ব্যাপারে কে কী বলছে, এটা তাদের ব্যাপার। নির্বাচনের বছর বলে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হচ্ছে- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের কাছে নির্বাচন কোনো ইস্যু না। নির্বাচন যাদের কাছে ইস্যু, বিষয়টি তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেন। আমাদের কাছে সব বছরই সমান বছর। সব দিনই সমান দিন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল বলেন, দুদক বিএনপি নেতাদের ব্যাংক লেনদেন বিষয়ে তদন্ত করার চিন্তাভাবনা করছে। এ জন্য কয়েকজনকে চিঠি দিয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের হাত আছে কি না তা জনগণ ভালো করে জানে। বিএনপিকে চাপে রাখা, বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই বিভিন্ন বানোয়াট কথাবার্তা বলা হচ্ছে, এটা এখন সবাই বোঝে। তিনি বলেন, এটা বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার ষড়যন্ত্রের একটি অংশ।