লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান লিটুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

0
46
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুর আমির লিটুর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে লোহাগড়া উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশ। মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) বিকালে লোহাগড়া পৌর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিকদার আবদুল হান্নান রুনু।
লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু আমাদের জানা মতে কোন দিন ছাত্রলীগ, যুবলীগ করেননি। সে ছাত্র জীবনে ঢাকা থাকা কালিন সময়ে বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ প্রকাশের ঘনিষ্ট সহচর ছিলেন। সে সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করতে গিয়ে সে গুলিবিদ্ধ হন। সেই গুলির একাধিক চিহ্ন তার শরীরে এখনও বিদ্যমান। সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু বিএনপি-জামায়াত রাজনীতির অন্যতম পৃষ্টপোষক। তার শ্বশুরকুল ও মাতৃকুলসহ নিকট আত্মীয় স¦জনরা বিএনপি রাজনীতির সাথে জড়িত। তার সাথে সব সময় থাকে লোহাগড়া উপজেলার বিএনপি নেতা নুরুন্নবী, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি সাহেব আলী খন্দকার। নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি মটুক মোল্যা, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল ইসলাম, নোয়াগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নবাব আলী, সম্পাদক সাবু সরদার। লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও নলদী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামানের সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সহযোগিতা করে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, ইতনা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও ভুমি দস্যু মহসিন, পলাশ, আইয়ুব, রাহাত, জামায়াত নেতা শেখ শহিদ তার ঘনিষ্ট সহচর।
উপজেলা আওয়ামীলীগের জাল কমিটি তৈরী, ভূমি দস্যুতা, ১৬ই ডিসেম্বরে লোহাগড়া মোল্যার মাঠে শহীদ বেদী এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ভাংচুর ও অবমাননা এবং বিএনপি জামায়াত শিবিরের সাথে সখ্যতা ও সংগঠন বিরোধী কর্মকান্ডের জন্যে গত ২৪.০৩.২০১৮ তারিখে উপজেলা আওয়ামীলীগের সর্ব সম্মতিক্রমে তাকে দল থেকে বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।
নেতারা অভিযোড় করেন, সম্প্রতি মোচড়া লোহাগড়া মৌজায় ৬.৬২ একর জমির জাল দলিল করতে গিয়ে ধাওয়া খায়। ২০১১ সালের ২৪ অক্টোবর কুষ্টিয়া থেকে মাইক্রো ছিনতাই এবং নড়াইল সদর থানায় এক চালক হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারার আসামী ছিলেন।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরে তার অবাধ দূর্নীতির কারণে দুদক ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়ে তার বিরুদ্ধে দুদক লোহাগড়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করে। মামলা নং ০৬/১৮২, ০৭/১৮৩, তারিখ ০৭.০৭.২০১৭ইং। তার বিরুদ্ধে দূর্নীতির আরও ৫টি অভিযোগ দুদকে তদন্তাধিন রয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উৎসবের নামে কাবিটা, টিআর, জিআরের ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় অর্ধ শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে যা দুদক ইতোমধ্যে আমলে নিয়েছে। উপজেলার সাবেক পিআইও নজরুল ইসলামকে হুমকি ও ভয়ভীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা ভুয়া বিল উত্তোলন করে নেয়। গত ১৬.০২.২০১৭ ও ১৭.০৭.২০১৭ ইং তারিখে পিআইও নজরুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ দুদকে দাখিল করেন।
এছাড়াও সৈদয় ফয়জুল আমির লিটু লোহাগড়া বাজারের গোহাটের জায়গা, পোদ্দারপাড়ার মনু ফকিরের জায়গা, লোহাগড়া আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা, লোহাগড়া কলেজ পাড়ার দুটি জায়গা, উপজেলার সামনে মোমিন মুন্সির জায়গাসহ বিভিন্ন জায়গার ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে দখলের পায়তারা করছে বলেও লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন লিটুর ৩৯ লক্ষ টাকার ভুয়া প্রকেল্পে স্বাক্ষর না করায় সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু জীবন নাশের হুমকি দেয়। এ বিষয়ে ইউএনও মনিরা পারভীন লোহাগড়া থানায় উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন। ডায়েরি নম্বর- ১৫৭৬। এঘটনায় উপজেলা চেয়ারম্যান গত ২৮ মার্চ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ইউএনও কর্তৃক দায়েরকৃত জিডির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের অপকর্ম ঢাকতে চেয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনের ৪দিন পর উপজেলা চেয়ারম্যান গত ১ এপ্রিল তারিখে ইউএনওর জিডির পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা দাখিল করলেও আদালত তা খারিজ করে দেয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু একজন দূর্নীতিবাজ, ভুমি দস্যু, জ্বালিয়াতি হওয়ায় তার উপজেলা চেয়ারম্যান পদ হতে অব্যহতি দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকারের যথাযথ উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নলদী ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতা আবুল কালাম আজাদ পাখি, লক্ষ্মীপাশা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী বনি আমিন, কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান, লোহাগড়া ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল শিকদার, কোটাকোল ইউপি চেয়ারম্যান মারিয়া হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here