ঢাকায় মেজরের বাসায় শিশু গৃহপরিচারিকার মত্যু : লাশের ময়নাতদন্ত নড়াইলে

0
71
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : ঢাকায় এক মেজরের বাসায় কর্মরত এক শিশু গৃহপরিচারিকার অস্বাভাবিক মত্যুর অভিযোগে মৃতের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মৃত শিশু গৃহপরিচারিকা শরফিার (৮) লাশ নড়াইল সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়েছে। শরিফা নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার খাসিয়াল ইউনিয়নের ছুড়িগাতি গ্রামের মৃত টকুু মোল্যার কন্যা শিশু। শরিফার মামা খসরুল ফকির জানান, তার ভাগ্নি শরিফা ৮ মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী জয়নগর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া গ্রামের আলী মিয়া গাজীর পূত্র ঢাকায় কর্মরত সেনা কর্মকর্তা মেজর সাজ্জাদ হোসেনের বাসায় গৃহ কর্মী হিসেবে কাজ করতে যায়। গত শুক্রবার (৩০ মার্চ) শনিবার সাজ্জাদ হোসেনের স্ত্রী তার বোন নাজমা বেগমকে জানায় শরিফা অসুস্থ। শনিবার নাজমা বেগম ঢাকায় গিয়ে দেখে তার মেয়েকে ঢাকায় কচু ক্ষেতের পার্শ্বে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে আই.সি.ইউতে রাখা হয়েছে। এর কয়েক ঘন্টা পর জানা যায় শরিফা মারা গিয়েছে। সোমবার রাত ২টার দিকে শরিফার লাশ নড়াগাতিতে পৌছায়। মৃত্যুর বিষয়টি আমাদের সন্দেহ হওয়ায় আমরা ময়না তদন্তের সিদ্ধান্ত নেই। ময়না তদন্তের সিদ্ধান্তের পর সাজ্জাদ হোসেন তাকে ও তার বোনকে ফোনে বলে তোমরা এটা নিয়ে কোনো কিছু করে না। তোমাদের যদি
চাকরি চাও তাহলে দেওয়া হবে অথবা ২০ লাখ টাকা দেওয়া হবে। খসরুল জানায় মৃত্যুর সঠিক কারণ তারা জানতে চায়। তাদের বিশ্বাস তার ভাগ্নিকে অত্যাচার করে অথবা ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে।
শরিফার মা নাজমা বেগম ফোনে জানান, শরিফা ৮ মাস পূর্বে তাদের পার্শ্ববর্তী গাছবাড়িয়া গ্রামের সেনা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসোনের বাসায় কাজের জন্য যায় এবং সেখানে ছিল। শনিবার তাকে ফোন করে জানানো হয় মেয়ে অসুস্থ। ঢাকায় সিএমএইচে গিয়ে দেখি মেয়ে মারা গেছে। সাজ্জাদ তাকে জানিয়েছে মেয়ে নাকি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আমার মেয়ের ক্যান্সার হতে পারে না। মৃত্যুর মাস খানেক আগে তাকে ভালো দেখে আসলাম। আর এক মাস যেতে নো যেতেই তার ক্যান্সারে মত্যু হলো ? তাকে অত্যাচার করে অথবা অন্য ভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তার মেয়ের
শরীরের নিন্মাঙ্গে রক্ত ক্ষরণের চিহৃ রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি এ ঘটনার প্রকৃত বিচার চান বলে জানান।
নড়াইল সদর হাসপাতালের চিকিৎসক (হাসপাতালের প্রাক্তন আর.এম.ও) ডা. সুজল কুমার বকসি জানান, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শরিফা ঢাকায় যেখানে চিকিৎসাধীন ছিল সেখান থেকে চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি কাগজ আসার পর বোর্ড গঠন করে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেওয়া হবে। হয়ত দু’একদিন সময় লাগতে পারে। আশা করছি ময়নাতদন্তে সঠিক সিদ্ধান্ত বেরিয়ে আসবে।
এ ব্যাপারে নড়াগাতি থানার ওসি মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, ঢাকায় শরিফা (৮) নামে এক শিশুর মত্যু হয়েছে। তার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য ময়না তদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। শুনেছি ওই শিশু ঢাকায় সাজ্জাদ হোসেন নামে এক মেজরের বাসায় থাকতো। সেখানে তার মৃত্যু হয়েছে। মেজোর সাজ্জাদ ফোন করে জানিয়েছে, কয়েকদিন পূর্বে জ্বর, পাতলা পায়খানা হলে ঢাকার সম্মিলিত সামিরক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা শরিফার ব্লাড ক্যান্সার হয়েছিল বলে জনিয়েছে। শরিফার শরীরে আঘাতের চিহৃ ছিল কিনা এমন প্রশ্নে বলেন, শরীরের কোথাও আঘাতের চিহৃ পাওয়া যায়নি। তবে পায়ু পথের কাছে কালো জমাট বাঁধা রক্তের মতো মনে হয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সেনা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেনের সাথে ফোনে দু’বার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here