Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : আজ সোমবার (২ এপ্রিল) শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। এবার পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে বেশ তৎপর সরকার। এ লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয় সারাদেশে ২৮টি মনিটরিং টিম গঠন করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ন্ত্রণে তারা এক যোগে কাজ করবে। এ সময় প্রতিটি পরীক্ষার কেন্দ্রের সামনে অবস্থান নেবে ভ্রাম্যমান আদালত। যাতে করে প্রশ্নফাঁসে কোনো সিন্ডিকেট অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে।
এবার মোট ২ হাজার ৫৪১ কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। যা গত বছরের তুলনায় ৪৪টি কমেছে। এছাড়া বিদেশে ৭টি কেন্দ্রে ২৯৯জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয়ে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা পরিচালনা করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে দেশের ১০টি শিক্ষাবোর্ডসহ সমমানের বোর্ডগুলো।
এছাড়া প্রথমবারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে সিকিউরিটি টেপযুক্ত বিশেষ খাম। পাশাপাশি লটারির মাধ্যমেও প্রশ্নসেট নির্ধারণ করে সকল বোর্ডে একযোগে অভিন্ন প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩০ মিনিট আগে প্রবশ করবে।
এ দিকে পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে প্রশ্ন ফাঁস চক্রের কোন অপরাধের প্রবণতা দেখা গেলে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় (অপরাধ) আইন ১৯৮০ সালের ৪২ নম্বর আইন মোতাবেক উক্ত অপরাধীকে, অপরাধের ধরণ অনুযায়ী বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেয়া হবে।
এছাড়াও পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করতেই ১৯৮০ সালের এই আইনটির সাথে আইসিটি ও ফৌজদারী আইনগুলোকে যুক্ত করার চিন্তা করছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ঢাকা।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মু: জিয়াউল হক ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে সামাজিক আন্দোলন, অভিভাবকদের সচেতনা বৃদ্ধি ও গণমাধ্যমের জোড়ালো করতে হবে।
প্রশঙ্গত, আগের বছরগুলোতে দু-একটি বিষয়ের প্রশ্ন ফাঁস হলেও এইবার যেন প্রশ্নফাঁস জনিত কোনো ধরণের অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে সরকার বদ্ধপরিকর।
মূলত ২০১২ সালের পর থেকে পাবলিক পরীক্ষা হলেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা, এমনকি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্নও ফাঁস হচ্ছে। এখন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস স্বাভাবিক বিষয় হয়ে গেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের অবস্থা অনেকটা লেজেগোবরে। একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হচ্ছে না। তবে এবার সরকার প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নতুন নতুন পন্থা অবলম্বন করছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বাস্তবতা এত দিন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সরকার পাশ কাটিয়ে গেছে। ফলে প্রশ্নপত্র ফাঁসের পুরো বিষয়টি এখন সরকারের নাগালের বাইরে। এখন যেভাবে তৎপরতা দেখানো হচ্ছে, আগে এসব ব্যবস্থা নিলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটত না।
আগে শুধু এসএসসি ও এইচএসসি এবং সমমানের বোর্ডের পরীক্ষা হতো। কিন্তু গত ৯ বছরে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী এবং অষ্টম শ্রেণিতে জেএসসি, জেডিসি নামে নতুন পাবলিক পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। আবার একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে শুধু ফলাফলের ওপর নির্ভর করা হচ্ছে। সৃজনশীল প্রশ্নপদ্ধতিসহ শিক্ষায় নতুন কিছু পদ্ধতিও চালু করা হয়েছে। পাঠ্যবইয়েও এসেছে নানা পরিবর্তন। কিন্তু সুপরিকল্পনার ঘাটতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে সামগ্রিক প্রভাব পড়ছে শিক্ষাব্যবস্থায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা গতকাল বলেন, তাঁরাও মনে করছেন, চলতি এসএসসি পরীক্ষায় হয়তো প্রশ্নপত্র ফাঁস আর ঠেকানো যাবে না। তবে এটাকে এখন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে ব্যাপক ধরপাকড় চলতে থাকবে।
১০টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ১৩ লাখ ১১ হাজার ৪৫৭ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করবে। যা গত বছরের তুলনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৭১ পরীক্ষার্থী বেড়েছে। বৃদ্ধি হার ১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এবার ছেলেদের তুলনায় মেয়ের সংখ্যা কম। ছেলে ৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৩০ এবং মেয়ে ৬ লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ জন।
এবার সাধারণ আট বোর্ডে শিক্ষার্থী সংখ্যা ১০ লাখ ৯২ হাজার ৬০৭ জন। তার মধ্যে ছেলে ৫ লাখ ৫২ হাজার ৬১২ এবং মেয়ে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৯৫ জন। অন্যদিকে, মাদরাসা বোর্ডের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১২৭ জন। যার মধ্যে মেয়ে ৪৪ হাজার ১৩৫, ছেলে ৫৫ হাজার ৯৯২ জন।
এছাড়াও কারিগরি শিক্ষায় মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৫৪। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাপ্রাপ্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ৩০ মিনিট বরাদ্দ থাকবে।