প্রশ্ন ফাঁস বন্ধের দাবিতে যশোরে টিআইবির’র মানববন্ধন

0
40
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

‘শিক্ষা খাতে সুশাসন ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ: চাই পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)’র পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সারাদেশে একযোগে মানববন্ধন করেছে। এরই অংশ হিসেবে সনাক যশোরের উদ্যোগে রবিবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টায় যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এ ‘মানববন্ধন’ অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এ. এইচ. এম. আনিসুজ্জামান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সনাক যশোরের সভাপতি অধ্যাপক সুকুমার দাস।
এ সময় বক্তব্য দেন, প্রবীণ শিক্ষক তারাপদ দাস, সনাক সদস্য প্রফেসর ড. মুস্তাফিজুর রহমান, সুরধুনী যশোরের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ, টিইউসি’র সাধারণ সম্পাদক শ্রমিকনেতা মাহবুবুর রহমান মজনু, শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড: মাহামুদ হাসান বুলু, যশোর কলেজের অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, তির্যক যশোরের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর দাস রতন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক যোগেশ দত্ত, জাগরণী চক্রের জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসিব নেওয়াজ, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিলন রহমান, ইসলামিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেজাউল হক, যশোর বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফিরোজা বেগম, সেবাসংঘ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ইউনুস আলী, মেডিকেল শিক্ষার্থী নিশাত ফাহমিদা তিতলি প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, সচিব, কর্মকর্তা, গোয়েন্দা বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারি সংস্থাকে আন্তরিকভাবে কাজ করার অনুরোধ জানান। প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে দেশের বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলোকে বিশেষ নজরদারিতে আনারও অনুরোধ জানানো হয়। তাঁরা বলেন, প্রশ্ন ফাঁস আমাদের জাতীয় মেধাকে শেষ করে দিচ্ছে। বাংলাদেশের কোমলমতি মেধাবীরা তাঁদের যোগ্য ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে জাতি গঠনে আমরা মেধাবীদের পাচ্ছি না। দেশের কাজে আমরা মেধাবীদের না পেলে জাতি হিসেবে পিছিয়ে পড়ব এবং দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব না। এতে দেশ ও জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জাতি হিসেবে আমরা মেধাশূন্য জাতিতে পরিণত হব। এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত কলঙ্কের এবং লজ্জার।
মানববন্ধনে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে সরকার ও প্রশাসনকে জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সাধারণ জনগণ বিশেষ করে অভিভাবকেরা যাতে ফাঁসকৃত প্রশ্নের পিছনে না ছুটে তাঁরা তাদের সন্তানের পড়ালেখার প্রতি আরো আন্তরিক হন সেদিকে নজর দেয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।
প্রশ্ন ফাঁস রোধে সরকারের সহায়ক হিসেবে অবদান রাখার লক্ষ্যে সনাক-টিআইবি নি¤œলিখিত সুপারিশ করেছে: ১. ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ সংশোধন) আইন, ১৯৯২’ এর ৪ ধারা পুনরায় সংশোধন করে শাস্তির মাত্রা পূর্বের ন্যায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদ-ের বিধান প্রণয়ন এবং নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা; ২. কোচিং সেন্টার নিষিদ্ধকরণে সরকারের ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ এর অস্পষ্টতা দূর করা এবং কোচিং বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন প্রণোদনাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা; ৩. প্রশ্ন ফাঁস রোধ ও সৃজনশীল পদ্ধতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে গাইড বইয়ের আদলে প্রকাশিত সহায়ক গ্রন্থাবলী বন্ধে প্রচলিত আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা; ৪. তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে তদারকি বাড়ানো ও প্রচলিত আইনের অধীনে শাস্তি নিশ্চিত করা; ৫. ধাপ কমিয়ে প্রশ্ন প্রণয়ন, ছাপানো ও বিতরণের কাজটি পরীক্ষামূলকভাবে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা এবং পরবর্তীতে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করা; ৬. প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে গঠিত যেকোনো তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ৭. শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতি এবং ব্যবস্থাপনাগত যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ প্রদান করা; ৮. প্রশ্ন ফাঁস রোধে বহুনির্বাচনী প্রশ্ন ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে তুলে দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা; ৯. পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্নপত্রের একাধিক সেট রাখা|

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here