খুলনার সাবেক মেয়র তৈয়েবুর রহমানের মৃত্যুতে রূপান্তর’র শোক

102

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্ক : খুলনার সাবেক এবং সর্বাধিক সময়ের জন্য নির্বাচিত সিটি মেয়র, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সমাজসেবক এ্যাডভোকেট শেখ তৈয়েবুর রহমানের মৃত্যুতে রূপান্তর পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। রূপান্তর পরিবারের পক্ষে নির্বাহী পরিচালকদ্বয় স্বপন কুমার গুহ এবং রফিকুল ইসলাম খোকন এক শোকবার্তায় খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে মরহুম এ্যাডভোকেট শেখ তৈয়েবুর রহমানের কথা স্মরণ করে বলেন, অবহেলিত খুলনার উন্নয়নে তার মত বলিষ্ট নেতা প্রয়োজন। শোকবার্তায় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়।
তিনি গত শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটে নগরীর নার্গিস মেমোরিয়াল ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্না…রাজিউন)। বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক একাধারে দীর্ঘ ১৭ বছর খুলনার মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাষ্ট্রদূত ও খুলনার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। তার মৃত্যুতে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মেয়রের স্ত্রী লায়লা রহমান জানান, গত ১৭ অক্টোবর ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে তার ডান পাশ দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর থেকে নিজ বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছু সময় পরেই তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে গেছেন।

নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় হাদিস পার্কে মরহুমের জানাযার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বাদ যোহর গগনবাবু রোডের মসজিদে নূরে দ্বিতীয় জানাযা শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বাগেরহাটের কররী গ্রামের নিজ বাড়িতে। সেখানে আছরবাদ শেষ জানাযা শেষে বাবা-মায়ের কবরে শায়িত করা হবে তাকে।

পরিবার থেকে জানা গেছে, ১৯৩৬ সালের ২১ অক্টোবর বাগেরহাট সদরের কররী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন খুলনার এই বর্ষীয়ান নেতা। ১৯৬৫ সালে ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ন্যাপের খুলনা জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। আইন পেশার কারণে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও ছিলেন। প্রতিষ্ঠাকালিন সময় থেকে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি খুলনায় বিএনপির ঘাঁটি গড়তে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তার হাতে গড়া অনেক রাজনৈতিক নেতাই এখন খুলনা বিএনপিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

১৯৯০ সালের ১৫ ডিসেম্বর খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র মনোনিত হন শেখ তৈয়েবুর রহমান। সেই থেকে ২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ৩ দফা নির্বাচিত হয়ে একটানা ১৭ বছরের মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সেনেগালের রাষ্ট্রদূত করা হয় তাকে। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২ নভেম্বর ওয়ান ইলেভেনের সময় খুলনা মেয়রের দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হন তৈয়েবুর রহমান। তাকে মাদকদ্রব্যসহ নানা অভিযোগের ১৫টি মামলার আসামি করা হয়। তার আগ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। এরপর জামিন পেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। গত ৮ বছর ধরে একাকী নির্বাসন জীবন কাটিয়েছেন গগনবাবু রোডের নিজ বাড়িতে।

তার সময় তৈরি নিউ মার্কেট বাইতুন নূর জামে মসজিদ, দৃষ্টিনন্দন নগর ভবন, কলেজিয়েট গার্লস স্কুল অ্যান্ড কেসিসি উইমেন্স কলেজ, ইসলামবাদ কলেজিয়েট স্কুল কেসিসির সর্বশেষ দৃশ্যমান উন্নয়ন প্রকল্প। শেখ তৈয়েবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবনে নির্বাচন করে পরাজয়ের কোন রেকর্ড নেই। দেশে সম্ভবত তিনিই একমাত্র বিএনপির নেতা, যিনি একটানা প্রায় ১৯ বছর ধরে রাষ্ট্রীয় পতাকা বহন করেছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় তৈয়েবুর রহমানের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের ছন্দপতন ঘটে। এরপর আর দলে জায়গা হয়নি তার।

মরহুমের মৃত্যুর খবর পেয়ে তার বাড়িতে ছুটে যান খুলনার সকল দলের রাজনৈতিক নেতা ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ। তারা শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানান।