নড়াইলে কৃষিজমিতে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

0
50
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

নড়াইল কণ্ঠ : নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার চর আমডাঙ্গা গ্রামের দু’মুক্তিযোদ্ধাসহ ২৫টি পরিবারের পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে গুচ্ছগ্রাম করার অভিযোগ উঠেছে। কৃষি জমি দখল করে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করার প্রতিবাদে ক্ষতিগ্রস্তরা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা ধরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৮মার্চ) সকালে এলাকাবাসীর আয়োজনে মানববন্ধন করেন কয়েক শত নারী, পুরুষ ও শিশুরা ।
এসময় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা আসাদ আলী খন্দকার ও মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন মোল্লা, জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ।
এলাকাবাসীর অভিযোগ তাদের ২ একর ৫৬ শতক পৈত্রিক কৃষি জমির উপর প্রশাসন জোর করে গুচ্ছগ্রাম তৈরী করছে। এ বিষয়ে এসি ল্যান্ড, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তারা কোন প্রতিকার পাননি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান ক্ষতিগ্রস্থরা।
মুক্তিযোদ্ধা আসাদ আলী খন্দকার (৬৭) অভিযোগ করে জানান, তার বাপ দাদার পৈত্রিক সম্পত্তি দখল করে তাদের কোন ক্ষতি পুরন না দিয়ে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, সি এস (২৬ সালের) রিকোর্ড এবং এস এ (৬২ সালের) রেকর্ড তাদের নামে রয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা সাহাবুদ্দিন (৭০) মোল্লা জানান, শত বছর যাবৎ তারা এই জমিতে কৃষি কাজ করেন। ২.৬৫ একর জমিতে গুচ্ছগ্রাম করা হলে অন্তত ২৫টি কৃষি পরিবার তাদের সকল সম্পত্তি হারিয়ে পথে বসবে। তিনি আরও জানান, লোহাগড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলামকে ভোট না দেওয়ায় তাদের জমি দখল করে গুচ্ছগ্রাম নির্মান করছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বর) মোতালেব মোল্লা জানান, যে জমিতে গুচ্ছগ্রাম নির্মাণ করা হচ্ছে এটি একটি কৃষি জমি। এসকল জমিতে তার চোখের সামনে অন্তত ৫০ বছর ধরে কৃষি কাজ করা হচ্ছে। এই জমিতে গুচ্ছগ্রাম নির্মান করা হলে এলাকার শতাধিক কৃষক পরিবার ক্ষতি গ্রস্থ হবে।
কৃষক নুরু মোল্লার অভিযোগ, তেতুলিয়া মৌজার নাম বলে কামঠানা মৌজায় তাদের নিজেস্ব কৃষি জমিতে এটি নির্মান করা হচ্ছে। পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া তাদের রেকোডিয় জমিতে এই গুচ্ছ গ্রাম নর্মিান করা হচ্ছে বলে দাবী এই প্রান্তিক কৃষকের।
কৃষক ছাকায়েত ফকিরের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে তারা এসি ল্যান্ড, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেলেও তারা কোন প্রতিকার পাননি। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা করেছেন বলেও জানান ক্ষতিগ্রস্থরা।
লোহাগড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল সিকদার জানান, এটি কোন কৃষি জমি না। এলাকার কিছু মানুষ মনে করছেন এটি কামঠানা মৌজায় করা হচ্ছে । কিন্তু গুচ্ছগ্রামটি কামঠানা মৌজায় করা হচ্ছেনা। এটি তেতুলিয়া মৌজায় সরকারী খাস জমিতে করা হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, কৃষি জমি দখল করে গুচ্ছগ্রাম করার কোন বিধান নেই। বিষয়টি তিনি জেলা প্রশাসককে অবহিত করবেন বলে জানান এই কৃষি বিদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here