গোপালগঞ্জে যৌন হয়রানির অভিযোগে শিক্ষক বরখাস্ত

127

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে সদর উপজেলার শুকতাইল ইউনিয়নের শুকতাইল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগেরভিত্তিতে গত শনিবার দুপুরে ম্যানেজিং কমিটি এ সিদ্ধান্ত নেয়। এ ঘটনার পর থেকে ওই শিক্ষক এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। ওই শিক্ষকের বাড়ি জেলার কাশিয়ানী উপজেলার মহানাগ গ্রামে।

শুকতাইল ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো: আবেদ আলী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন শুকতাইল গ্রামের একটি বাড়িতে লজিং থাকতেন। এই সুযোগে ওই বাড়ির এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কিছু গোপন ভিডিও ধারণ করেন মোবাইল ফোনে। এ সব ভিডিও চিত্র ধারণ করে শিক্ষার্থীকে একের পর এক ব্লাক মেইল করে যাচ্ছিলেন।

ওই শিক্ষক গ্রামের বাড়িতে গেলে তার স্ত্রী ভিডিও চিত্রটি দেখে ফেলে এবং ওই ছাত্রীর প্রতিবেশী জাহিদের মোবাইলে ট্রান্সফার করে। জাহিদ ওই ভিডিও চিত্র অন্যদের দেখান।

এরপর গত শনিবার শুকতাইল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবন্ধীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য উপস্থিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভা ডেকে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো: শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে স্থায়ী ভাবে বরখাস্ত করা হবে।

গোপীনাথপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই মো: ইদ্রিস আলী জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগের সময় ওই শিক্ষকও অনুষ্ঠানে ছিলেন। কিন্তু অভিযোগ ওঠার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে ওই ছাত্রীর পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জালাল উদ্দিন বলেন, শুকতাইল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রতিবন্ধীদের মাঝে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে আমি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে স্থানীয়রা সহকারী শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক কাজের অভিযোগ করেন। আমি ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার জন্য উপস্থিত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে নির্দেশ দিয়েছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে বার বার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।