Exif_JPEG_420
Tuli-Art Buy Best Hosting In chif Rate In Bd

৬ মার্চ উদীচী ট্র্যাজেডি দিবস। ১৯৯৯ সালের এ দিনে যশোরে উদীচীর ১২তম সম্মেলনে বোমা হামলায় ১০ সাংস্কৃতিক কর্মী মারা যান। আহত হন শতাধিক।
আহতদের একজন হরেণ গুসাই। যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাতিবিলা গ্রামের স্বর্গীয় নিতাই পদ অধিকারীর সন্তান। উদীচীর তালিকায় হরেণ বাউল টিভি শিল্পি। দুই পায়ের হাটুর নিচ থেকে সম্পূর্ণ কেটে ফেলতে হয়েছে তার। দুটি প্লাস্টিকের পায়ের অংশ আর হাতে লাঠি ভর করে নিজের কাজটুকু সারেন।
উদীচী ট্রাজেডির ১৯ বছর পরও হরেণ বাউলের দিন কাটছে অর্ধাহারে-অনাহারে। পাননি সরকারি কোন অর্থ সহায়তা। তার ষাটোর্দ্ধ স্ত্রী পার্বতী অধিকারীও পাননা কোন ভাতা। ৬ মাস পরপর মাসে ৭ শত টাকা হারে যে প্রতিবন্ধী ভাতা পান তাই দিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটান তিনি।
৪মার্চ রবিবার সোনালী ব্যাংকের চৌগাছা শাখায় এসেছিলেন ৬ মাসের প্রতিবন্ধী ভাতা নিতে। এদিন ভাতার টাকা দেয়ার দিন না হলেও ব্যাংক কর্মচারী আনোয়ারের সহানুভুতিতে নিয়ে গেলেন ৬ মাসের ভাতার চার হাজার ২শ টাকা। সেখানেই কথা হয় তার সাথে।
হরেণ বাউল বলেন, দুটি ছেলে ছিল তার। বড় ছেলে অরবিন্দ অধিকারী। সে মারা গেছে বেশ কয়েক বছর আগে। দু’ ছেলে ও স্ত্রী রেখে। ছোট ছেলে বিদ্যুৎ অধিকারীর স্ত্রী ও তিন ছেলে। এরপরও ছোট ছেলের সহায়তায় তিনি বড়ছেলের বিধবা স্ত্রী আর সন্তান নিয়ে কোন রকমে সংসার চালাতেন। সম্প্রতি ট্রাক চালক ছোট ছেলে বিদ্যুৎ চট্রগামে গিয়ে হার্ট এ্যাটাকে মারা যান।
এখন দুই বিধবা পুত্রবধু, তাদের পাঁচ ছেলে আর নিজের স্ত্রী সবই যেন বোঝা হয়ে দাড়িয়েছে হরেণ বাউলের। বলছিলেন, বলুন তো বাবা, এই মাসের সাত’শ টাকা তাও ছ’মাস পরপর পাই। এতে কি এই উর্দ্ধগতির বাজারে ৯টা মানুষের মুখের খাবার জোগাড় হয়?
বলেন, কোনভাবে যদি একটা প্রপৌত্রের চাকুরি হতো তাহলে হয়ত শেষ জীবনে দু’ডো খেয়ে পরে বাঁচতাম! বলেন, বাবা এই ১৯টি বছর যে কিভাবে কাটছে তা বলে বোঝাবার নয়। সেদিনের সেই বিভিষীকাময় রাতে যদি মরেও যেতাম এই কষ্ট থেকে হয়ত নিবৃতি পেতাম। বলেন, সেদিন ছিল যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষদিন। রাত ১টার কিছু পর মঞ্চের পেছনে প্রথমে একটি পরে আরেকটি শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে প্রাণ হারান নূর ইসলাম, নাজমূল হদা তপন, সন্ধ্যা রানী ঘোষ, ইলিয়াস মুন্সি, শাহ আলম বাবুল, বাবুল সূত্রধর, শাহ আলম, বুলু, রতন রায় এবং রামকৃষ্ণ। আহতদের কেউ দু’ পা, কারো এক পা, কারো হাত, কেউবা শ্রবণশক্তি হারান। হয়ে যান আজীবনের জন্য পঙ্গু। ঘটনার পরদিন অজ্ঞাতনামা কয়েজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।