নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান লিটুর বিরুদ্ধে ইউএনও’র জিডি

60

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটুর বিরুদ্ধে হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে জিডি(সাধারণ ডায়েরী) করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা পারভীন। বুধবার (২৮ ফেব্রæয়ারী) লোহাগড়া থানায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ জিডি দায়ের করেন। (জিডি নং-১৫৭৬, তাং- ২৮/২/১৮)। লোহাগড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ব্যাপারে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, লোহাগড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু ২০১৭ সালের ২৯ জুন কিছু ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দ নিয়ে আসেন এবং উক্ত বিলে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে স্বাক্ষর করতে বলেন। কিন্তু ভূঁয়া প্রকল্প হওয়ায় ইউএনও স্বাক্ষর না করায় ৩৯ লাখ টাকা ফেরত চলে যায়। এর পর থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনওকে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে এবং টেলিফোন ও মোবাইলে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিডিতে আরো উল্লেখ করেছেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু একজন কুখ্যাত সন্ত্রাসী। তিনি বিকাশ-প্রকাশ বাহিনীর সহযোগি এবং ডাকাত ছিলেন। তিনি একজন পেশাদার খুনি। সম্প্রতি তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন। চেয়ারম্যান বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করায় দুর্নীীত দমন কমিশনের দায়েরকৃত মামলায় আসামী হয়েছেন। চেয়ারম্যানের অব্যাহত হুমকি এবং টেলিফোনের আলাপচারিতায় জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছি। নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি থানায় জিডি দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়জুল আমির লিটু বলেন, এতদিন পরে এসে কোন উদ্দেশ্যে আমার বিরুদ্ধে জিডি করা হয়েছে, তা আমি জানি না। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। আমি যদি মোবাইল ফোনে কোনো হুমকি দিয়ে থাকি তার প্রমাণ থাকার কথা। আমার নাম ভাঙিয়ে তাকে কেউ হুমকি দিয়েছেন কি-না তা খতিয়ে দেখার বিষয়। আর নয় মাস পরে এসে আমার বিরুদ্ধে কেন এমন অভিযোগ করা হচ্ছে- তা বুঝতে পারছি না।