ব্যাপক দরপতন হওযায় চামড়া নষ্ট হওয়ার শঙ্কা

নড়াইল কণ্ঠ ডেস্কঃ  পশুর চামড়া নিয়ে  ব্যাপক শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে ৪০ শতাংশ চামড়া নষ্ট হওয়ার। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে ব্যবসায়ীরা। সোমবার (১২ আগস্ট) অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদুল আজহা। মৌসুমি অনেক ব্যবসায়ী ও কওমি মাদরাসাগুলোও চামড়া সংগ্রহ করে।জানা গেছে, চামড়া সংগ্রহের পরপরই চলে যাচ্ছে চামড়ার পাইকারি বাজার লালবাগের পোস্তায়। সেখানে শুরু হয়েছে চামড়া সংগ্রহ ও কেনাবেচা।তবে গত বছরের তুলনায় এবছর চামড়ার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছর থেকে এ বছর প্রতিটি চামড়া ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। এবছর প্রতি পিস ছোট চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, যা গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এভাবেই চামড়া ভেদে কমছে দাম।পাইকারি ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া সংগ্রহ শুরু করেছেন। তবে ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে টাকা না পাওয়ায় এবার ৫০ শতাংশ আড়তদার কমে গেছে।  পোস্তায় এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি কাঁচা চামড়ার বেচা-কেনা।ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলা জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় কাঁচা চামড়ার আড়তে প্রতিবারের মতো এবারো লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চামড়া আসবে বলে প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। এখানে চামড়া লবণজাত করার পর তা চলে যাবে সাভারের ট্যানারিপল্লিতে।দরপতন নিয়ে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ বছর প্রায় এক কোটি কোরবানির পশুর চামড়া আমদানি করার টার্গেট আছে। তবে আমরা রাজধানী থেকে প্রতি বর্গফুট লবণছাড়া চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় সংগ্রহ করছি। সে হিসাবে ছোট প্রতি পিস চামড়ার দাম ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি আকারের প্রতিটি চামড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং বড় দুই হাজার থেকে ২৫ স্কয়ার ফুট চামড়ার দাম ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, সব মিলিয়ে এবছর চামড়াখাতে ভয়াবহ পরিস্থিতি চলছে। ট্যানারি মালিকরা সাড়ে তিনশ কোটি টাকার বেশি বকেয়া রেখেছেন। অন্যান্য ঈদের সময় ১০ থেকে ২০ শতাংশ নগদ টাকা দিলেও এবার সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন টাকা পেয়েছেন। ব্যবসায়ীরা টাকা না পেলে চামড়া কিনবেন কিভাবে। ফলে অনেক চামড়া নষ্ট হয়ে যাবে।একজন ব্যবসায়ী জানান, আড়তদাররা সরকারের নির্ধারিত দামে চামড়া কিনতে রাজি হচ্ছে না। তারা অল্প দাম দিতে চায়।তিনি বলেন, এখন চামড়া বিক্রি করতে না পারলে ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে ঋণ করে চামড়া কিনে আর্থিক সংকটের কবলে পড়তে হবে। আমরা চামড়ার জন্য যে পরিমাণ টাকা ইনভেস্ট করেছি, বিক্রি করতে দেরি হলে পুরো টাকাই লোকসান হবে। তখন ব্যাপক শঙ্কটের মধ্যে পড়তে হবে আমাদের।